বিরাট কোহলি ছাড়তে চলেছেন ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব! দায়িত্বে আসছেন কে?
আইপিএল শুরুর আগেই ভারতীয় ক্রিকেটে শোরগোল। ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চলেছেন বিরাট কোহলি। শুধু টেস্টেই তিনি অধিনায়কত্ব থাকতে চান। ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোনিবেশের কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন বলে দাবি করেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্র।

অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন বিরাট
টি ২০ বিশ্বকাপের শেষে ভারতীয় দলের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, বিরাট কোহলির সঙ্গে রবি শাস্ত্রীর জুটিও ভাঙতে চলেছে। এরই মধ্যে টি ২০ বিশ্বকাপে মেন্টর করে আনা হয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতীয় দলে হঠাৎ মেন্টরের কী প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অজয় জাদেজা। ২০১৪ সালে ভারতের ইংল্যান্ড সফরে রাহুল দ্রাবিড়কে ব্যাটিং পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর এত দ্রুত কোনও প্রাক্তনকে ভারতীয় দলের কোচ বা মেন্টর করার নজির যে নেই তা মনে করিয়ে দিয়েছেন কপিল দেবের মতো প্রাক্তনরা। ট্রানজিশন যাতে মসৃণ হয় সেক্ষেত্রে ধোনিকে এই পদে আনা হয়েছে বলে মনে করছে দেশের ক্রিকেট মহল। ধোনিকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনও পরিকল্পনাও থাকতে পারে বিসিসিআইয়ের। চাপের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা মাথায় সামাল দেওয়ার মতো ধোনির বিকল্প নেই বললেই চলে। টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের ড্রেসিংরুমে সেটাকেই কাজে লাগাতে চাইছে বিসিসিআই। আর তারপরই সামনে আসছে বিরাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার জল্পনার কথা।

প্রথম পছন্দ রোহিত
যদিও বেশ কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় দলে স্প্লিট ক্যাপ্টেন্সির পক্ষে সওয়াল করেছেন অনেকে। এই মুহূর্তে ৩২ বছরের বিরাট কোহলিই ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রোহিত শর্মার বয়স ৩৪। সূত্রের খবর, গত অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই রোহিত শর্মার সঙ্গে অধিনায়কত্ব ছাড়ার বিষয়ে কথা বলে আসছেন বিরাট কোহলি। কথা হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও। গত মার্চ থেকে রোহিত ও বিরাটের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে বলেই দাবি করেছে ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। যদিও রোহিত ও বিরাটের মধ্যে কোনও সময়ই খারাপ সম্পর্ক ছিল না বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন ভারতীয় হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। সূত্রের খবর, বিরাট ফের বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে চান। সে কারণেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার ভাবনা। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর থেকে বিরাট কোহলির ব্যাটে আন্তর্জাতিক শতরান নেই। ২০২২ সালে টি ২০ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ রয়েছে। ফলে বিরাটের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাঁর ঘাড়ে অধিনায়কত্বের বোঝা রাখার ঝুঁকি বিসিসিআইও নেবে না।

বিরাটের রেকর্ড
বিরাট কোহলি যেখানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে একবারও আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করাতে পারেননি, সেখানে সব দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। বিরাট কোহলি ভারতকে একদিনের আন্তর্জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৯৫টি ম্যাচে, জিতেছেন ৬৫টিতে, হার ২৭টিতে, একটি টাই ও দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত বা অমীমাংসিত। টি ২০ আন্তর্জাতিকে ৪৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরাট, জয় ২৯টিতে, পরাজয় ১৪টিতে, ২টি পরিত্যক্ত বা অমীমাংসিত। এর মধ্যে গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরে হ্যামিলটন ও ওয়েলিংটনে দুটি ম্যাচ টাই হলে এক ওভারের এলিমিনেটরে ভারত জেতে। আইপিএলে এখনও অবধি বিরাট রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৩২টি ম্যাচে। জয় ৬২টিতে, পরাজয় ৬৬টিতে। পরিত্যক্ত বা অমীমাংসিত চারটি ম্যাচ।

রোহিত যখন অধিনায়ক
রোহিত শর্মা ভারতকে ১০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জয় আটটিতে, পরাজয় দুটিতে। টি ২০ আন্তর্জাতিকে ভারতকে ১৯টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোহিত, জয় ১৫টিতে, হার ৪টিতে। আইপিএলে তিনি ১২৩টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন। জয় ৭৪টিতে, পরাজয় ৪৯টিতে। সর্বোপরি রোহিতের কোচ দীনেশ লাড থেকে শুরু করে সুনীল গাভাসকররা মনে করেন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়কত্ব পাওয়াই রোহিতের কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। অধিনায়কত্ব তাঁর ব্যাটিংয়ে যে প্রভাব ফেলে না তা তিন ফরম্যাটে তাঁর ব্যাটিং দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। সর্বোপরি রোহিত অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে বড় ইনিংস খেলার গুরুক্ব বেশি করে উপলব্ধি করেছেন, যার সুফল পেয়েছে তাঁর দল। এই মুহূর্তে সীমিত ওভার ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনারদের একজন।

অধিনায়কত্ব ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলেনি
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০১৭ সালে বিরাট কোহলি তিন ফরম্যাটেই ভারতের অধিনায়ক হন। রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বে ভারত ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অনুষ্ঠিত ৬ দেশের এশিয়া কাপ জেতে। বীরেন্দ্র শেহওয়াগ ও রোহিত শর্মারই ভারতীয়দের মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিকে দ্বিশতরানের নজির রয়েছে। বর্তমানে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন রোহিত। দুটি ফরম্যাটের অধিনায়কত্বের ভার থেকে মুক্ত হলে তা যদি বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে তাহলে নিঃসন্দেহে উপকৃত হবে ভারতীয় ক্রিকেট।

স্প্লিট ক্যাপ্টেন্সি
স্প্লিট ক্যাপ্টেন্সির ধারণা প্রথম চালু হয় অস্ট্রেলিয়ায়। মার্ক টেলর-স্টিভ ওয়া থেকে স্টিভ ওয়া-রিকি পন্টিং কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকায় বিভিন্ন ফরম্যাটে একই সময়কালে অধিনায়কত্ব করতে দেখা গিয়েছে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ফাফ দু প্লেসিকে। ২০০৭ সালে ভারতীয় দলে অনিল কুম্বলে যখন টেস্টের অধিনায়ক ছিলেন তখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। বিরাট কোহলি যখন ২০১৪ সালে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হন তখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ২০১৭ সাল অবধি অধিনায়ক ছিলেন মাহি। সবকিছু ঠিকঠাক চললে স্প্লিট ক্যাপ্টেন্সি ফের ফিরছে ভারতীয় ক্রিকেটে।

বর্তমানে ৬টি দেশে
বর্তমানে ৬টি দেশ স্ল্পিট ক্যাপ্টেন্সিতে আস্থা রেখেছে। ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইয়ন মর্গ্যান। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ক্যাপ্টেন টিম পেইন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অ্যারন ফিঞ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট অধিনায়ক ক্রেগ ব্রেথওয়েট, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কায়রন পোলার্ড। দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্টে নেতৃত্ব দেন ডিন এলগার, টি ২০ ও একদিনের আন্তর্জাতিকে অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে আবার তিন অধিনায়ক। টেস্টে মোমিনুল হক, একদিনের আন্তর্জাতিকে তামিম ইকবাল, টি ২০-তে মাহমুদুল্লাহ। শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে, টি ২০ ও একদিনের আন্তর্জাতিকে দাসুন শনকা।












Click it and Unblock the Notifications