Friendship Day 2023: সতীর্থ থেকে চির প্রতিদ্বন্দ্বী, খেলার মাঠে সেরা পাঁচটি বন্ধুত্বের জুটি
খেলার মাঠ মানেই তীব্র প্রতিন্দ্বন্দ্বীতা, পেশাদারিত্বের নির্মম যুগে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে জায়গা টিকিয়ে রাখার লড়াই। কিন্তু লড়াই শেষে থেকে যায় সম্পর্ক, আর বন্ধুত্ব। সতীর্থই হয়ে উঠেন প্রিয় বন্ধু। ক্রিকেট হোক বা টেনিস জুটি থেকেই গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বের ভিত। খেলার মাঠই আবার চির প্রতিপক্ষকে বুকে টেনে নিয়ে বলতে শেখায় বন্ধু কেমন আছিস বল!
খেলার মাঠে জুটি থেকে বন্ধু হয়ে উঠার কাহিনি কম নেই। দেশ-সীমানার গণ্ডী ছাড়িয়ে গড়ে উঠেছে ক্রিকেটারদের মধ্যে বন্ধুত্ব।ক্রিকেট মানেই পেশাদারিত্বের ছোঁয়া, সেখানে বন্ধু হওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু ব্যতিক্রমও আছেন অনেকে। যাঁরা শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও বন্ধুত্বের এক নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন। পেশাদার থেকে তাঁদের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে পারিবারিক।

ভারতীয় ক্রিকেটে বন্ধুত্ব শব্দটা এলেই একাধিক জুটির নাম মনে আসে। তবে সেরা জুটি বাছতে হলে এক কথায় উঠে আসে সচিন-সৌরভের নাম। ১৫ বছর বয়স থেকে তাঁদের বন্ধুত্বের সূচনা হয়। ৫০ পেরিয়েও যা অমলিন। আসলে সচিন-সৌরভের বন্ধুত্ব যে চিরন্তন-চিরকালী ন।ভারতীয় ক্রিকেটের ভগবান আর অফ সাইডের ভগবানের জুটি ভারতীয় ক্রিকেটে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজও তাঁদের ওপেনিং জুটির সাফল্য ক্রিকেটে মিথ হয়ে আছে। ব্যাট হাতে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন এই জুটি, যা আজও অক্ষত। সচিনের পরামর্শেই একদিনের ক্রিকেটে ওপেন করতে শুরু করেন মহারাজ, যা তাঁর কেরিয়ারে মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। তাঁদের বন্ধুত্বের কাহিনি এক রূপকথার গল্প।
বন্ধুত্ব কী শুধু দলীয় স্তরেই সীমাবন্ধ? ভিন্ন দেশের দুই ক্রিকেটারের মধ্যেও গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব। বিরাট কোহলি- এবি ডিভিলিয়ার্স। বন্ধুত্ব নাকি ব্যাটিং কোন পার্টনারশিপের গভীরতা তাদের মধ্যে বেশি সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

এটি সেই বন্ধুত্বগুলির মধ্যে একটি যা দুই খেলোয়াড়ের বিপরীত দলে থাকা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সত্ত্বেও গড়ে উঠেছে। ভারতের বিরাট কোহলি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডিভিলিয়ার্সের বন্ধুত্বেপ ভিত্তি গড়ে দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। দুই জনের মধ্যে একটি শক্তিশালী ব্যাটিং পার্টনারশিপ এবং একইসঙ্গে শক্তিশালী বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
বর্তমানে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সেরা দুই খেলোয়াড়, স্মৃতি মান্ধানা এবং জেমিমা রদ্রিগেজের পার্টনারশিপ শুধু ২২ গজেই সীমাবদ্ধ নেই। বাস্তব জীবনেও তাঁদের বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট। জেমিমা ভারতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাদের বন্ধুত্বের সূচনা। জেমিমা একাধিকবার বলেছেন যে স্মৃতি তাঁর একজন পরামর্শদাতা এবং বড় বোন। দুই জনের মধ্যে যে বন্ধন রয়েছে তা সমাজ মাধ্যমে। শেয়ার করা বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিওতেও প্রতিফলিত হয়।
ক্রিকেট থেকে এবার নজর রাখা যাক টেনিসে। ভারতীয় টেনিসের জুটি বা বন্ধু বললেই উঠে আসে লিয়েন্ডার পেজ এবং মহেশ ভূপতির কথা। কিন্তু টেনিস কোর্টে তাঁদের জুটি যেমন ভেঙেছে তেমনই তাঁর প্রভাব পড়েছে তাঁদের বন্ধুত্বের সম্পর্কেও।
সাম্প্রতিক কালে মিক্সড-ডাবলস জুটি সানিয়া মির্জা এবং রোহান বোপান্না একটি শক্তিশালী বন্ধুত্ব নতুন নজির স্থাপন করেছে। রোহন সানিয়ার প্রথম মিক্সড ডাবলস সঙ্গী ছিলেন ১৪ বছর বয়সে। যা পরবর্তীকালে আরও শক্তপোক্ত হয়। সানিয়া রোহন জুটি শুধু ভারতকে একাধিক সাফল্য এনে দেননি, একইসঙ্গে বন্ধুত্বের এক নতুন দৃষ্টান্তও তৈরি করেন।

টেনিস কোর্টে তাঁরা ছিলেন তীব্র প্রতিন্দ্বন্দ্বী। কিন্তু রাফায়েল নাদাল এবং রজার ফেডেরার কোর্টের বাইরে ছিলেন অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। একে অপরকে তাঁরা কতটা সম্মাণ করেন তা ফেডেক্স বা নাদাল প্রকাশ্যেই বলেছেন। ২০১৬ সালে নাদালের অ্যাকাডেমি উদ্বোধনও করেন ফেডেরার। আর ফেডেরারের বিদায়ী ম্যাচে নাদালের আবেগঘন মুহূর্ত গুলোই বুঝিয়ে দেয় কোর্টের লড়াইকে পিছনে পেলে জয় হয় বন্ধুত্বেরই।












Click it and Unblock the Notifications