ভারত ৫০০ টেস্ট খেলতে চলেছে ভালো কথা, কিন্তু আমাদের সাফল্য মোটেই আহামরি কিছু নয়
বাইশে সেপ্টেম্বর কানপুরের গ্রিন পার্কে শুরু হতে চলেছে প্রথম ভারত-নিউজিল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ। রেকর্ড যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্যে এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি হতে চলেছে ভারতের ৫০০তম টেস্ট। সেই ১৯৩২ সাল থেকে শুরু করে ভারতের ৮৪ বছরের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ইতিহাসে এটি যে একটি গৌরবময় অধ্যায়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আর সাম্প্রতিক ফর্মের নিরিখেও নতুন টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি যে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেবেন এই ঐতিহাসিক সিরিজে, তাতে নিন্দুকেরাও সায় দেবেন এক কথাতেই।
চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারত ৫০০ টেস্ট খেলবে
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ভারত চতুর্থ দেশ হিসেবে ৫০০ টেস্টের গন্ডি টপকাবে আসন্ন সিরিজে। এর আগে ইংল্যান্ড (৯৭৬), অস্ট্রেলিয়া (৭৯১) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫১৭) এই রেকর্ডের অধিকারী হয়েছে। সংখ্যার নিরিখে নিশ্চয়ই ভারতের মুকুটে এটি একটি বড় পালকের সংযোজন কিন্তু পারফরম্যান্সের খাতিরে?

ব্যাপারটা বুঝতে আবার একটু সংখ্যাতত্বের দিকে চোখ ফেরানো যাক। এখনও পর্যন্ত ৪৯৯ টেস্ট ম্যাচে ভারতের জয় এসেছে কিন্তু মাত্র ১২৯টিতে, পরাজয় হয়েছে ১৫৭টিতে এবং ড্র-এর সংখ্যাটি প্রকাণ্ড - ২১২। একটি টেস্ট ম্যাচ টাই হয়। ভারতের সার্বিক সাফল্যের হার ২৫.৮৫ শতাংশ।
শতকরা সাফল্যের হারে ভারত কিন্তু দশের মধ্যে সাত
সাফল্যের হারে ভারতের স্থান দশটি দেশের মধ্যে সাত নম্বরে ! অস্ট্রেলিয়া (৪৭.০২), দক্ষিণ আফ্রিকা (৩৬.৩১), ইংল্যান্ড (৩৫.৮৬), পাকিস্তান (৩২.০৮), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৩১.৭২) এবং শ্রীলঙ্কা (৩১.০৭) ভারতের আগে আর অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবোয়ে এবং বাংলাদেশের মতো টেস্টে শেষ সারির দলগুলিই শুধুমাত্র ভারতের পিছনে ।
টেস্টে ভারতের বিপুল সংখ্যক ড্র
ড্র-এর সংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ভারতের চেয়ে বেশি ড্র করেছে ইংল্যান্ড (৩৪২টি) যদিও তারা খেলেছে প্রায় দ্বিগুন ম্যাচ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ভারতের চেয়ে প্রায় ৩০০ টেস্ট ম্যাচ বেশি খেললেও ড্র করেছে ভারতের থেকে ৬টি ম্যাচ কম। এমনকি যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আজ টেস্ট ক্রিকেটে রীতিমতো ধুঁকতে থাকা দলের মধ্যে গোনা হয়, তাদের জয়ের সংখ্যাও ভারতের চেয়ে বেশি এবং ড্রয়ের সংখ্যা ভারতের চেয়ে কম।
পাকিস্তান ভারতের থেকে ১০০টি ম্যাচ কম খেলেছে, কিন্তু জিতেছে মাত্র একটি কম
চিরশত্রু পাকিস্তানের খতিয়ানও কিন্তু ভারতের চেয়ে বেশ ভালো। ভারতের চেয়ে দু'দশক পরে শুরু করে পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত ৩৯৯টি ম্যাচ খেলে (ভারতের থেকে ১০০ ম্যাচ কম) জিতেছে ভারতের চেয়ে মাত্র একটি ম্যাচ কম। তাদের হারের সংখ্যাও ভারতের চেয়ে ৪৪ কম।
টেস্ট প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ভারত
এবার চোখ বোলানো যাক টেস্টে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভারতের পারফরম্যান্সের উপর। ভারতের সর্বাধিক টেস্টে জয় (২৪) যদিও এসেছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, কিন্তু সেই চব্বিশটি জয়ের জন্যে ভারতকে খেলতে হয়েছে ৯০টি ম্যাচ (সাফল্য শতকরা ২৬.৬৬ শতাংশ)।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড (১৮.৭৫), পাকিস্তান (১৫.২৫) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯.১৪)-এর বিরুদ্ধেও টেস্টে ভারতের খতিয়ান খুবই সাধারণ মানের। টেস্টে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে (৭৫ শতাংশ, একটিও পরাজয় নেই) আর তারপর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে (৬৩.৬৩ শতাংশ)। শ্রীলঙ্কা (৪২.১০), নিউজিল্যান্ড (৩৩.৩৩) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার (৩০.৩০) বিরুদ্ধে টেস্টে ভারতের সাফল্য মাঝারি মাপের।
এই সংখ্যাগুলি চিনিয়ে দেয় ভারতের আট দশকের টেস্ট খেলার ঘরানা
এই সমস্ত সংখ্যাতত্ব ভারতের টেস্ট ক্রিকেট খেলার ঘরানা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেয় আর তা হল: জেতার জন্যে নয়, ড্রয়ের জন্যে খেল যাতে কোনওরকমে লজ্জার হাত থেকে বাঁচা যায় আর দ্বিতীয়: ফাস্ট বোলিংয়ের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ করো। ভারতের ঘরের মাঠে আর বিদেশের মাটিতে জয়ের পরিসংখ্যান দেখলেই ব্যাপারটা খোলসা হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত সর্বাধিক ২৪টি ম্যাচ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াতে জিতেছে মাত্র ৫টিতে। সেদেশে মোট টেস্ট যেখানে খেলা হয়েছে ৪৪টি।
উনিশশো চল্লিশের দশকের ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়কদের বলতে শোনা যেত যে ডন ব্র্যাডম্যান যদি তাঁদের দলের বিরুদ্ধে তাঁর একশোতম শতকটি হাঁকান, তো তাহলে তাঁরা বর্তে যাবেন। খেলার মাঠে এমন চ্যারিটি আজকের দিনে ভাবাই যায় না।
তবে ভালো দিকও আছে
সুতরাং, এমন ভাবনাচিন্তা যেই দলের, তার যে আর বিশেষ জেতা হবে না, তা তো সহজেই অনুমেয়। কিন্তু ভারতের ক্রিকেটে অতীতে মনসুর আলী খান পতৌদি এবং পরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তারপর মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং এখন কোহলির হাত ধরে যে আগ্রাসী মানসিকতার আমদানি হয়েছে, তাতে ওই পরিসংখ্যানে কিছু হলেও ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন পতৌদির নেতৃত্ত্বে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিদেশে টেস্ট সিরিজ জেতা, সৌরভের আমলে পাকিস্তানে সিরিজ জেতা এবং অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ড্র করা বা রাহুল দ্রাবিড়, ধোনি এবং কোহলির নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের দেশে হারানো।
এখনো বাকি, অস্ট্রেলিয়াকে আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের দেশে হারানো
এই সাফল্যগুলি সাম্প্রতিককালে ভারতের 'কাগুজে বাঘ' বদনাম অনেকটাই নির্মূল করতে পেরেছে ঠিকই কিন্তু তাও টেস্ট ক্রিকেটে বড় সাফল্যের থেকে ভারত এখনও বেশ কিছুটা দূরে। অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাঁদের দেশে সিরিজে হারানো এখনও ভারতের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এই সময়কার ইংল্যান্ডকে তাদের দেশে হারানোও যথেষ্ট কঠিন কাজ। এমনকি নিউজিল্যান্ডকে তাদের দেশে ভারত ওই একবারই হারাতে পেরেছে আজ পর্যন্ত, ১৯৬৮ সালে।
সব মিলিয়ে, ভারতের ৫০০ টেস্টের এই বিরল মুহূর্তটিতে যেমন অনেক কারণেই মনে গর্বানুভব হয়, তেমনই এটাও মনে হয় যে অনেক পথই এখনও চলা বাকি। দেখা যাক, কোহলি সেই পথে তাঁর দেশকে কতটা নিয়ে যেতে পারেন।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications