বিষ্ণুর ভক্ত জয় ও বিজয় কেন তিন জন্মের শত্রুতাকেই বেছেছিলেন, কী ছিল তাদের পরিচয়
বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষী ছিলেন তাঁরা। নাম জয় আর বিজয়। নারায়ণ বিষ্ণুদেব ও দেবী লক্ষ্মী ছিলেন তাঁদের ধ্যানজ্ঞান। কিন্তু দুই ভাইয়ের জীবনে এমনই এক অভিশাপ নেমে এল যে, তিন প্রজন্ম ধরে বিষ্ণুদেবের শত্রু হয়ে জন্মাতে হয়েছিল তাদের। কারা ছিলেন তাঁরা। আর কী করেই বা তাঁদের মুক্তি ঘটল, জেনে নিন এই কাহিনিতে।
পর পর তিন যুগে তিনবার জন্ম নিয়েছিলেন জয় ও বিজয়। সত্যযুগে তাঁদের প্রথম জন্ম হয়েছিল বিষ্ণুর শত্রু হিসেবে। বিষ্ণুর পরমভক্ত হয়েও তাঁদের শত্রুরূপে দেখা গিয়েছি তাঁদের। দ্বিতীয় জন্ম হয়েছিল ত্রেতা যুগে। তারপর তৃতীয় জন্ম হয়েছিল দ্বাপর যুগে। প্রতিবারই বিষ্ণুকে অবতার হিসেবে মর্ত্যে এসে নিধন করতে হয়েছিল তাদের।

বিষ্ণুর শত্রু হিসেবে প্রথম জন্মে জয় ও বিজয় হয়েছিলেন হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যক্ষ। তাঁরাও ছিলেন দু-ভাই। দুজনেই ছিলেন অপরিসীম ক্ষমতায় অধিকারী। নারায়ণকে তাই জোড়া অবতার হয়ে এসে দু-ভাইকে বিনাশ করতে হয়েছিল। বরাহ অবতারে হিরণ্যক্ষকে নিধন করেছিলেন বিষ্ণু।
আর ভাইয়ের মৃত্যুর পর যখন হিরণ্যকশিপু অত্যাচারের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন, তখন নৃসিংহ অবতার হিসেবে বধ করেছিলেন হিরণ্যকশিপুকে। হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ বিষ্ণুভক্ত হওয়াকে ছেলেকে পর্যন্ত রেওয়াত করেননি তিনি। তাই নৃসিংহ অবতারে হিরণ্যকশিপুর বিনাশ ঘটান বিষ্ণু।
দ্বিতীয় জন্মে রাবণ ও কুম্ভকর্ণ হিসেবে জন্ম নিয়েছিলেন জয় আর বিজয়। রাবণ অত্যাচারী হলেও কুম্ভকর্ণ ছিলেন ধার্মিক। তবু দাদার কথায় তিনি বিষ্ণুর বিরোধিতা করতে যুদ্ধে নেমেছিলেন। শেষে উভয়েই বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রামের হাতে নিহত হন। এভাবেই দুই প্রজন্মে জয় ও বিজয় নিহত হন বিষ্ণু কর্তৃক।
আর তৃতীয় জন্মে জয় ও বিজয় জন্ম নেন চেদিরাজকুমার হিসেবে। তাঁরা ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের পিসতুতো ভাই। কিন্তু প্রথম থেকেই তাঁরা ছিলেন কৃষ্ণবিরোধী। তাঁদের নাম ছিল শিশুপাল ও দন্তবক্র। কৃষ্ণের হাতে তাঁরা দুই ভাই নিহত হন। তারপরই মুক্তিলাভ করেন জয় ও বিজয়।

তারপর পুনরায় তারা ফিরে যান বিষ্ণুলোকে। বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষী হিসেবে নিযুক্ত হন। এটাই ছিল বিষ্ণুর পরম ভক্তের শত্রুরূপে অবতীর্ণ হওয়ার কাহিনি। কিন্ত কেন তাঁরা শত্রু হিসেবে জন্ম নিলেন? সে কাহিনি বড়ই বিস্ময়ের। চার ঋষিকুমারের অভিশাপে তাঁদের এই দশা হয়েছিল।
একদিন বৈকুণ্ঠে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বিষ্ণু। তখন লক্ষ্মী এসে জয়-বিজয়কে জানান, প্রভু বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ যেন না এ সময় তাঁকে বিরক্ত করেন। তখন দ্বারে প্রহরারত জয়-বিজয়ের কাছে এসে ব্রহ্মার মানসপুত্র চার ঋ্ষি বিষ্ণুর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন।
জয় ও বিজয় চার ঋষিকুমারকে চিনতে পারেননি। জয় ও বিজয় তাঁদের ঢুকতে বাধা দেওয়ায় ব্রহ্মার মানসপুত্ররা অভিশাপ দেন। সেই অভিশাপ শুনে জয় ও বিজয় কাতর হয়ে পড়েন দুঃখে। তাঁদের সাত জন্ম বিষ্ণুলোক ছেড়ে মর্ত্যে জন্মাতে হবে। তারপর শাস্তি লঘু হয় তিন জন্মে। কিন্তু তিন জন্ম তাঁদের মর্ত্যে জন্মাতে হবে বিষ্ণুর শত্রুরূপে। বিষ্ণুর অবতারের হাতে বদ্ধ হয়ে তাঁদের মুক্তি ঘটে।
-
কলম্বিয়া বিমান দুর্ঘটনা: উদ্ধার ৭৭, এখনও নিখোঁজ বহু, হত আপাতত ১ -
মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কট! অবশেষে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প -
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন সমীকরণ, ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরান বৈঠক ঘিরে জল্পনা -
সপ্তাহান্তে আবহাওয়ার বড় পালাবদল! এই দিন থেকে বাড়বে ঝড়বৃষ্টি, চড়বে পারদও -
কংগ্রেসের দাপুটে কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক যোগ দিলেন বিজেপিতে, কতটা বদলাবে কলকাতার হাওয়া? -
৯ মাস সিলিন্ডারে রিফিল করাননি? বন্ধ হতে পারে আপনার গ্যাস সংযোগ! কড়া পদক্ষেপ সংস্থার, কী করবেন? জেনে নিন -
মর্মান্তিক! দিনেদুপুরে রক্তাক্ত কাণ্ড, গড়িয়ার পার্লারের ভিতরে প্রেমিকাকে কুপিয়ে খুন করে আত্মঘাতী যুবক -
বিদায় হরিশ রানা! শেষ হল ১৩ বছরের যন্ত্রণাময় অধ্যায়, স্মৃতিতে রয়ে গেল অনেককিছু -
ভোটের আগে বড়সড় রদবদল! একসঙ্গে ৭৩ রিটার্নিং অফিসার বদলি, কড়া পদক্ষেপ কমিশনের -
কমিশনের কাগজে বিজেপির স্ট্যাম্প? 'পিছন থেকে কেন খেলছেন? সামনে এসে...', তোপ মমতার, আর কী বললেন? -
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়! ধর্ম বদলালে মিলবে না SC/ST সুবিধা, স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের -
বৈষম্যের অবসান! মহিলা সেনা অফিসারদের স্থায়ী কমিশন নিয়ে কড়া রায় সুপ্রিম কোর্টের, কী জানাল আদালত?












Click it and Unblock the Notifications