কৌরবরা হারাতে পারেননি সবাই মিলেও, অথচ অর্জুনকে হারতে হয়েছিল বব্রুবাহনের কাছে, জানেন কীভাবে
কৌরবরা সবাই মিলে একসঙ্গে যুদ্ধে করেও হারাতে পারেননি মহারথী গাণ্ডীবধারী অর্জুনকে। অথচ সুরজয়ী অর্জুনকে হারতে হয়েছিল বব্রুবাহনের কাছে। যেখানে ভীষ্ম, কর্ণ, দ্রোনাচার্য-রা অর্জুনকে হারাতে পারলেন না, সেখানে তাঁদের তুলনায় সাদামাটা যোদ্ধা বব্রুবাহনের কাছে কী করে হেরে গেলন অর্জুন, তার নেপথ্যে রয়েছে এক কাহিনি।
মহাভারতের কাহিনি অনুযায়ী, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর অশ্বমেধের ঘোড়া নিয়ে ভারত-জয়ে বেরিয়ে ছিলেন অর্জুন। তখন সমগ্র দেশের রাজারা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেন নতুবা হার মানেন অর্জুনের কাছে। কিন্তু অর্জুনের বিজয়রথ থমকে যায় মণিপুরে এসে। সেখানে স্বপুত্র বব্রুবাহনের (চিত্রঙ্গদা-অর্জুনের পুত্র) কাছে হার মানতে হয় অর্জুনকে।

কিন্তু কী করে অর্জুনের মতো অপরাজেয় যোদ্ধাকে হারাতে সমর্থ হলেন চিত্রাঙ্গদা-পুত্র? সেই ঘটনা জানতে পিছিয়ে যেতে হবে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময়ে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের দশম দিনে অর্জুন শিখণ্ডীকে সামনে রেখে ভীষ্মকে আক্রমণ করেছিলেন। ভীষ্ম অস্ত্রত্যাগ করলে তাঁরে শরাঘাতে জর্জরিত করে দেন অর্জুন। তাঁকে শরশয্যায় শায়িত করে দেন।
এই অন্যায় মেনে নিতে পারেননি ভীষ্ম-জননী গঙ্গা। মা গঙ্গা তখন অর্জুনকে শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা করেন, অর্জুনকে তাঁর পুত্রের হাতেই মৃত্যুলাভ করতে হবে। অর্জুনের এক স্ত্রী নাগকন্যা উলুপি তা শুনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি এই অন্যায় মেনে নেবেন। তিনি তাঁর স্বামীকে মরতে দেবেন না।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর অর্জুন যখন অশ্বমেধের ঘোড়ার পিছনে ধাওয়া করে মণিপুরে পৌঁছেছিলেন, তিনি জানতেন এই রাজ্যের শাসক তাঁর পুত্র। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পুত্র এই ঘোড়া আটকাক এবং তাঁর সঙ্গে বীরের মতো যুদ্ধ করুক। কিন্তু বব্রুবাহন তাঁকে স্বাগত জানাতে এলে অর্জুন রেগে যান।
বব্রুবাহনকে উদ্দেশ্য করে অর্জুন বলেন, এই আচরণ একেবারেই ক্ষত্রিয়সুলভ নয়। তিনি তাঁকে যুদ্ধের আহ্বান জানান। আসলে বব্রুবাহন কতটা পারদর্শী হয়ে উঠেছেন, তা দেখতে চেয়েছিলেন অর্জুন। অর্জুন যুদ্ধে তাঁকে বারবার পরাজিত করেছিলেন এবং তিরের আঘাতে জর্জরিত করে দিয়েছিলেন।
অর্জুনের বাণের আঘাতে জর্জরিত হয়ে মূর্ছা যান বব্রুবাহন। তখন বব্রুবাহনকে গঙ্গাদেবী তাঁর তৈরি বিশেষ তিরটি দিয়ে অর্জুনকে আঘাত করতে বলেন। সেই তিরের আঘাতে অর্জুন ভূপতিত হয়ে যান। এবং তাঁর মৃত্যু হয়। বব্রুবাহন সেই শোকে মূর্ছা যান। চিত্রঙ্গদা তা শুনে ছুটে আসেন। এবং তিনি উলুপির শরণাপন্ন হন। উলুপিই ফের অর্জুনের জীবন ফিরিয়ে দেন তাঁর জাদুকরী বিদ্যা কাজে লাগিয়ে।












Click it and Unblock the Notifications