এলপিজি ঘাটতির গুজব উড়িয়ে দিল কেন্দ্র, আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস বুকিং না করার পরামর্শ
দেশজুড়ে এলপিজি ঘাটতি নিয়ে জোর গুঞ্জনের মাঝেই স্পষ্ট বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, গার্হস্থ্য রান্নার গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে ও কোথাও কোনও সংকট তৈরি হয়নি। তাই গুজবে কান না দিয়ে বা আতঙ্কিত হয়ে আগাম গ্যাস বুকিং না করার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মার্চের তুলনায় দেশে গার্হস্থ্য এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের কাছে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সারা দেশে প্রায় ২৫ হাজার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের কোনওটির কাছ থেকেই সরবরাহ ঘাটতির খবর মেলেনি বলেও জানিয়েছে সরকার। রান্নার গ্যাসের সহজলভ্যতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে, এমনকি দরকার হলে বাড়তি কেরোসিন সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গুজবের জেরে হঠাৎ করেই এলপিজি বুকিং অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত প্রতিদিন যেখানে ৫০ থেকে ৫৫ লক্ষ বুকিং হয়, সেখানে গত কয়েকদিনে তা বেড়ে প্রায় ৭৫ লক্ষে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রায় ২০ লক্ষ অতিরিক্ত বুকিং হয়েছে, যা সরকার প্যানিক বুকিং হিসেবে চিহ্নিত করছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) ও যানবাহনের জন্য কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) সরবরাহও পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে ও কোথাও কোনও কাটছাঁট করা হয়নি। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদনেও দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছে কেন্দ্র।
সুজাতা শর্মার কথায়, দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মোট ক্ষমতা প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। দেশের সমস্ত তেল শোধনাগার বর্তমানে ১০০ শতাংশ বা তারও বেশি ক্ষমতায় কাজ করছে ও পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে কোনও ব্যাঘাতের সম্ভাবনা নেই।
একই সঙ্গে কালোবাজারি বা মজুতদারির অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। সরকারের বক্তব্য, গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্থিতিশীল। তাই গুজবের ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং না করার জন্যই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications