ভারতের তরুণ সমাজের একাংশের বিশ্বাস মশার কামড়ে ছড়িয়ে পড়ে এইডস, দাবি সমীক্ষার রিপোর্টে
ভারতের তরুণ সমাজের একাংশের বিশ্বাস মশার কামড়ে ছড়িয়ে পড়ে এইডস, দাবি সমীক্ষার রিপোর্টে
এইচআইভি বা এইডস এক সময়ে বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার ধারণ করেছিল। এই এইচআইভি বা এইডস থেকে দুরত্ব রাখার একমাত্র উপায় সচেতনতা। সেই এইচআইভি বা এইডসের বিষয়ে সচেতনতার বিষয়ে সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষার রিপোর্ট দেখলে চক্ষু চড়ক গাছের জোগাড়। আমাদের তরুণ সমাজের মাত্র এক চতুর্থাংশের এইচআইভি বা এইডসের সম্পর্কে সচেতনা রয়েছে। কিন্তু তরুণ সমাজের একাংশ এখনও মনে করে, মশার কামড়ে এইডস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা কম
জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৫ অনুসারে কিশোর-কিশোরীদের এইচআইভি বা এইডস নিয়ে জ্ঞান কম। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২৩-২৪ বছরের ২৪ শতাংশ মহিলা এইডস সম্পর্কে সচেতন। ওই বয়সের মধ্যে ৩৩ শতাংশ তরুণ সচেতন। তবে কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতার হার এক ধাক্কায় আরও বেশ খানিকটা কমে যায়। ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র ১৭ শতাংশ মহিলা ২৪ শতাংশ পুরুষ এই রোগের বিষয়ে সচেতন। এইডস সম্পর্কে সচেতনতার হার এত দুর্বল হলে, তা আমাদের সমাজজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। মারণ এই রোগকে এড়িয়ে চলতে পারা সম্ভব শুধু মাত্র সচেতনতার জোরে।

মহিলাদের থেকে পুরুষদের মধ্যে সচেতনার হার বেশি
দেখা গিয়েছে, প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলাদের থেকে পুরুষদের মধ্যে সচেতনতা বেশি। মহিলারা এই মারণ রোগ সম্পর্কে বিশেষ সচেতন নয় বলেও সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে। প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি ১৫-২৪ বছরের মহিলাদের মধ্যে ২২ শতাংশের এইডস বা এইআইভি সম্পর্কে সাম্যক জ্ঞান রয়েছে। পাশাপাশি ওই বছরের মধ্যে ৩১ শতাংশ পুরুষ মধ্যে এইডস বা এইচআইভি নিয়ে সচেতন। নির্দিষ্ট বয়সের নিরিখে একাধিক গোষ্ঠী করা হয়েছে। প্রতিক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সচেতনতার দিক থেকে মহিলারা একটু পিছিয়ে রয়েছে।

মশার কামড়ে ছড়ায় এইডস
সমীক্ষায় সচেতনার অভাবের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গিয়েছে এইডস বা এইচআইভি সম্পর্কে ভুল তথ্য তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ৫৪ শতাংশ মহিলা ও ৬৪ শতাংশ পুরুষরা মনে করেন, মশার কামড়ে এইডস বা এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ৪৫ শতাংশ মহিলা ও ৫৯ শতাংশ পুরুষ বিশ্বাস করেন, আক্রান্তের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নিলে এইডস বা এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সমীক্ষায় উঠে এসেছে দুই তৃতীয়াংশ মহিলা (৬৭ শতাংশ) ও ৭১ শতাংশ পুরুষ মনে করেন একজন সুস্থ ব্যক্তি হঠাৎ করেই এইডস বা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

এইডস সম্পর্কে ক্রমেই কমছে সচেতনতা
সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, আগের থেকে এইডস সম্পর্কে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা ক্রমেই কমছে। জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা ৪ অনুসারে ২২ শতাংশ মহিলা এইডস সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। এই সমীক্ষা (২০১৫-১৬) সালে করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯-২৯ সালে করা সমীক্ষায় সেই পরিসংখ্যান ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এইডসের সচেতনতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো। দক্ষিণ ভারতের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মানুষ এই রোগ সম্পর্কে জানেন।












Click it and Unblock the Notifications