তিন লামার সাক্ষাত ও রাজার ইতিহাস বহনকারী ইয়াকসামের সৌন্দর্য্যও অকৃত্রিম
তিন লামার সাক্ষাত ও রাজার ইতিহাস বহনকারী ইয়াকসামের সৌন্দর্য্যও অকৃত্রিম
পশ্চিম সিকিমের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত ইয়াকসাম একাধারে এ রাজ্যের ধর্মীয় স্থানও বটে। কারণ এই স্থানের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ৩৩৩ বছরের চোগিয়াল রাজত্ব এবং তিন বৌদ্ধ সাধুর সাক্ষাতের বহুল প্রচলিত ইতিহাসে। যার টানে ইয়াকসামে ছুটে যান পর্যটকরা। তাঁদের মতে, এই এলাকার মাধুর্যই নাকি স্বতন্ত্র। করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তে ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনা কমে গেলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অতিমারীর অগ্নিচক্ষু এড়িয়ে অন্যান্য স্থানগুলির মতো এখানেও বাড়ছে ভিড়। তাই চটপট ট্যুর প্ল্যান তৈরি করে নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ইয়াকসামের ইতিহাস ও সৌন্দর্য্যের জুরি মেলা ভার।

অবস্থানে বৈচিত্র
পেলিং থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ইয়াকসাম সমুদ্রতল থেকে ৫৮৪০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। পাহাড়ে ঘেরা এই শহর কাঞ্চনজঙ্ঘা ন্যাশনাল পার্কের মাথায় অবস্থিত। এলাকার মোট জনসংখ্যা ৪০১৩। ফলে নিরিবিলি, ছিমছাম এই স্থান করোনা পরবর্তী পুজোর নিরাপদ ভ্রমণমূলক স্থান হয়ে উঠতে পারে।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও ভূগোল
ইয়াকসাম কথার অর্থ 'তিন সাধুর সাক্ষাতের স্থান'। কথিত আছে, তিব্বত থেকে আসা তিন বৌদ্ধ সাধু ফুন্টসোং নামগায়ালকে সিকিমের প্রথম রাজা বলে মান্যতা দিয়েছিলেন। ১৬৪১ সালে ওই শাসককে চোগিয়াল বা ধর্মীয় রাজার উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে ৩৩৩ বছর সিকিমে চোগিয়াল বংশ রাজত্ব করেছে বলে শোনা যায়। আজও রয়েছে তার নিদর্শন। ইয়াকসামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন স্থপতির ভিড় মনকে টানে। ফলে সিকিমের মানুষ ও পর্যটকদের কাছে এই স্থানের মাহাত্ম্যই অন্যরকম। ইয়াকসাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘামুখী ট্রেক শুরু করেন বহু পর্বোতারোহী। সেখান থেকে বেরোনোর রাস্তা গ্যালশিং ও গ্যাংটকের সঙ্গে সংযুক্ত। ওক, পাইন, ফার, রডোডেনড্রনে মোড়ে সেই রাস্তায় হেঁটে পাওয়া যায় স্বর্গীয় শোভা।

যাওয়ার পথ
কলকাতা থেকে ট্রেন, বাস বা বিমানে পৌঁছতে হবে শিলিগুড়ি। সেখান থেকে বাস বা প্রাইভেট গাড়িতে আগে পেলিংয়ে পৌঁছনো আবশ্যক। যেখান থেকে ইয়াকসামে পৌঁছতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। বর্ষায় ওই পথের দৈর্ঘ্য কিছুটা হলেও বেড়ে যায়।

কেন যাবেন
যে স্থানে সিকিমের প্রথম রাজা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ফুন্টসোং নামগায়াল, সেই পাথরের বেদীটি বাঁধানো হয়েছে। যা এই এলাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এছাড়াও কাথক পোখরি, ডুবডি মনেস্ট্রি, কারটোক মনেস্ট্রি, ইয়াকসাম মন্দির পর্যটকদের অন্যান্য আকর্ষণের জায়গা। রয়েছে নগরের অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শনও।

কোথাও থাকবেন
পর্যটনস্থল হিসেবে বিখ্যাত হয়ে ওঠা ইয়াকসামে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে বেশ কিছু হোম স্টে। সেখানে পাবেন নানা ধরনের পরিষেবা। বুকিং পেতে যোগাযোগ করতে হবে আগে। তবে বেশিরভাগ পর্যটকই পেলিংয়ে থেকে এক বেলার জন্য ইয়াকসাম ঘুরে আসেন।












Click it and Unblock the Notifications