স্ট্রংরুম পাহারায় কড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্ৰে কুণাল-শশীর বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভিডিওবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএম পাহারা এবং স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন, কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি ভবানীপুরের শেখাওয়াত মেমোরিয়াল স্ট্রংরুমে পৌঁছে যান।
এদিকে সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে নামেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ, শ্যামপুকুরের শশী পাঁজা এবং জোড়াসাঁকোর বিজয় উপাধ্যায়। তাঁদের অভিযোগ ছিল, স্ট্রংরুমের ভিতরে সন্দেহজনক কাজ ও ব্যালট ঘোরানো হচ্ছে, যা লাইভ স্ট্রিমিংয়েও দেখা যায়।

তৃণমূল প্রার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, "লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দেখা যাচ্ছে ভিতরে কাজ হচ্ছে। হাতে হাতে ব্যালট ঘুরছে ভিতরে। অথচ সিইও বলছেন, ভিতরে কিছু হচ্ছে না। যদি পোস্টাল ব্যালটের কাজই হয়। তবে সেগুলি কোথা থেকে এল?"
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দলীয় কর্মীরা স্ট্রংরুমের সামনে থাকলেও পরে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। আচমকা ই-মেল মারফত ৪টেয় ফের স্ট্রংরুম খোলার কথা জানানো হলেও, কর্মীরা চলে যাওয়ায় কুণাল ও শশী নিজেরা ছুটে এসেও প্রবেশাধিকার পাননি। তাঁদের দাবি ছিল, বিজেপিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁদের আটকানো হয়।
শশী পাঁজা একই সুরে বলেন, "স্ট্রংরুম অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তা খুললে অবশ্যই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে জানাতে হবে। কেন জানানো হল না?" তাঁর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশ নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব ছিল।
এই খবর পেয়ে ডিইও স্মিতা পাণ্ডে দ্রুত ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে পৌঁছন। তাঁর উপস্থিতিতে শশী ও কুণাল প্রবেশ করলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা তৃণমূলের প্রবেশ নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়।
রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। কমিশন আশ্বাস দেয়, তৃণমূলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে কাউকে স্ট্রংরুমে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এর পরই কুণাল বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে দলীয় কর্মীদের ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। এই খবর পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভবানীপুরের শেখাওয়াত মেমোরিয়ালে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যাবেন বলে ঘোষণা করেন।












Click it and Unblock the Notifications