Pathra:ছোট্ট গ্রামে একঙ্গে ৩৪টি মন্দির, কংসাবতীর পাড়ের সেই জায়গা বেড়িয়ে আসুন সপ্তাহান্তের ছুটিতে
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যেন পর্যটনের খনি। দক্ষিণবঙ্গের সিংহভাগ পর্যটন কেন্দ্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। অনেকেই অবশ্য সেসব জায়গার কথা জানেন না। বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে তার যোগ রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এমনই একটি অফবিট জায়গা হল পাথরা।
পাথরা নামটি যেমন অদ্ভুত জায়গাটিও তেমন বৈচিত্রময়। একই গ্রামের মধ্যে রয়েছে ৩৪ টি মন্দির। সবগুলি হিন্দু নয় জৈন মন্দিরও রয়েছে। কংসাবতী নদীর পাড়ে রয়েছে পাথরা। নদী গর্ভে নাকি তলিয়ে গিয়েছে আরো অনেক মন্দির। সেগুলির এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যেগুলি পাওয়া গিয়েছে সেগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

এই পাথরার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার নবাব আলিবর্দি খাঁর ইতিহাস। শোনা যায় পাথরার একটা সময়ে নাম ছিল রত্নচক। এই রত্নচকের খাজনা আদায়ের দায়িত্ব নবাব আলিবর্দি খাঁ দিয়েছিলেন বিদ্যানন্দ ঘোষালকে। নবাবাকে খুশি করতে ভালোই খাজনা আদায় করে পৌঁছে িদচ্ছিলেন নবাবের দরবারে। কিন্তু হঠাৎই সব ওলট পালট হয়ে যায়। বিদ্যানন্দ ঘোষালের বাবা মারা যাওয়ার পর আর খাজনা আদায়ের কাজে ঠিকমতো মন দিতে পারছিলেন না তিনি। সেসময় তাঁর গুরুদেব আসেন তাঁর কাছে। গুরুদেবকে িতনি খাজনার সব টাকা দিয়ে িদতে চান। কিন্তু গুরুদেব সেই টাকা না নিয়ে তাঁকে মন্দির এবং ধর্মের কাজে লাগাতে বলেন।
সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় নবাব আলিবর্দি খাঁর কাছে। তিনি চরম শাস্তির নিদান দেন। বিদ্যানন্দ ঘোষালকে বেঁধে হাতির সামনে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেসময় ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা। বিদ্যানন্দ ঘোষালকে হাতির সামনে ফেলে দেওয়া হলেও হাতি কিছুতেই এগোতে চায়নি। এক পাও তাঁকে নড়ানো যাচ্ছিল না। খবর আলিবর্দি খাঁর কাছে যেতেই তিনি অবাক হয়ে যান এবং তাঁকে রত্নচক মহকুমাটি দান করেন।

তারপরেই খাজনার টাকা দিয়ে এখানে একের পর এক মন্দির তৈরি করতে শুরু করেছিলেন বিদ্যানন্দ ঘোষাল। পাথরা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নয় নয় করে ৩৪টি মন্দির। এখানে নবরত্ন মন্দির বেশ পরিচিত। রয়েছে রাসমঞ্চ। যদিও ২৮টি মন্দির আর্কিওলজিকাল সার্ভে নিয়েছে। তার মধ্যে ১৮টি মন্দির সংস্কার করা হয়েছে।
এখানে যেতে বেশি সময় লাগে না। ২দিনের ছুটিতে অনায়াসে বেড়িয়ে আসা যায়। কংসাবতীর নদীর তীরে গ্রামীণ পরিবেশে এমন সন্দুর একটা জায়গা দেখার সুযোগ সপ্তাহান্তে হাত ছাড়া না করাই ভাল। বাংলার ইতিহাস জানার আরও একটা সুযোগ পাওয়া যাবে।












Click it and Unblock the Notifications