সরকারি হাসপাতালে অবাঞ্ছিত ঘটনা রুখতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন বেশ কিছু নির্দেশ
সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। এই ধরনের ঘটনা রুখতে আজ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়ে গেল।
সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেন টেলিফোনের মাধ্যমে। রাজ্যের সমস্ত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগী, পরিদর্শক এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

একজন শীর্ষ আধিকারিক পিটিআইকে জানান, "মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, চিকিৎসার জন্য আসা কোনও ব্যক্তির হয়রানি কোনও পরিস্থিতিতেই সহ্য করা হবে না। তিনি প্রশাসনকে এ ধরনের অপরাধের প্রতি 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন।"
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পর্যবেক্ষণ এবং রোগী সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্যান্য অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের ডাকা উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ডিজি রাজীব কুমার এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। সূত্রের খবর, "বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশাবলি বাস্তবায়নের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি কর্ম পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে একজন প্রাক্তন গ্রুপ-ডি কর্মীর দ্বারা এক কিশোরী যৌন হয়রানির শিকার হয়। অভিযুক্তকে সেদিন রাতে ধাপা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং পকসো (POCSO) আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়দের দ্বারা এক জুনিয়র নারী চিকিৎসক যৌন হয়রানির শিকার হন এবং তাঁকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণের ঘটনার পর হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক ঘটনাই প্রমাণ করে, অবস্থার তেমন কোনও পরিবর্তনই হয়নি। আজকের বৈঠকের পর কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।












Click it and Unblock the Notifications