দলের সাংসদ, বিধায়কের সামনেই মহিলা নেত্রীকে লাথি তৃণমূল নেতার, ভাইরাল হল ভিডিও
সেই ক্যানিং। আবার সেই দলীয় কোন্দল। যার জেরে এবার দলের সাংসদ ও বিধায়কের সামনে মহিলা কর্মীকে সটানে লাথি মেরে বসলেন তৃণমূল নেতা। আর সেই ঘটনাই এবার ধরা পড়েছে ভিডিও-তে।
সেই ক্যানিং। আবার সেই দলীয় কোন্দল। যার জেরে এবার দলের সাংসদ ও বিধায়কের সামনে মহিলা কর্মীকে সটানে লাথি মেরে বসলেন তৃণমূল নেতা। আর সেই ঘটনাই এবার ধরা পড়েছে ভিডিও-তে। শনিবার বিকেলে এই ঘটনা ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা ক্ষেত্রে।

শনিবার বিকেল তিনটায় ক্য়ানিং পশ্চিমের নারায়ণপুরে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি এলাকা খুন-রাহাজানি, মাদক ব্যাবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের। এই জন্য এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল, রাজ্য সভার সাংসদ তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী। প্রতিবাদ সভার আয়োজক ছিলেন নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সালাউদ্দিন সর্দার।
দক্ষিণ ২৪ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী সভাস্থলে হাজির হতেই তাঁর নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। শুভাশিস চক্রবর্তী যখন সভা মঞ্চে উঠছিলেন ঠিক তাঁর পিছন পিছনে আসছিলেন নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা তৃণমূলের মহিলা নেত্রী রহিমা বিবি।
রহিমা বিবি-কে সভামঞ্চে উঠে আসতে দেখে তেড়ে যান সালাউদ্দিন সর্দার। মঞ্চের উপর থেকে সটানে লাথি মারেন রহিমা বিবি। লাথি-র ধাক্কায় রহিমাবিবি নিচে ভিড়ের উপরে গিয়ে পড়েন। এরপরও সমানে সালাউদ্দিন লাথি ছুঁড়তে থাকেন।
তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা সমানে সালাউদ্দিনকে আটকে রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মঞ্চের উপর থেকেই সমানে রহিমা বিবি-র দিকে তেড়ে যেতে থাকেন সালাউদ্দিন। একটা সময় শুভাশিস চক্রবর্তী নিজে সালাউদ্দিনের হাত টেনে ধরেন। তবু, সালাউদ্দিন শান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখাননি। জেলার দলীয় সভাপতির অনুরোধ উপেক্ষা করে হাত ছাড়িয়ে রহিমাবিবি-কে মারার জন্য তেড়ে যেতে থাকেন। মঞ্চের উপরে থাকা বিধায়ক শ্যামল মণ্ডলও মাইকে সালাউদ্দিনকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। এই পুরো ঘটনাই মোবাইলে ভিডিও হয়ে যায়।
ওয়ানইন্ডিয়া বেঙ্গলির তরফে শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাফ জানান, একটি ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। তবে সালাউদ্দিন যে সত্যি সত্যি রহিমা বিবি-কে লাথি মেরেছেন একথা মানতে অস্বীকার করেন তিনি। তিনি জানান, রহিমা বিবির এক আত্মীয়র বিরুদ্ধে এলাকায় কিছু অসামাজিক কার্যকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে সালাউদ্দিন ক্ষিপ্ত ছিলেন। রহিমা বিবি-র মঞ্চে উঠে আসাটা তিনি মেনে নিতে পারনেনি। তাই রাগের মাথায় একটি কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন। যদিও, এটা বড় কিছু নয় বলেই জানান তিনি।
শুভাশিস চক্রবর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দলবের সভাপতি হিসাবে এই গোষ্টী কোন্দলকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করতেই পারেন, কিন্তু এতে যে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাচ্ছে না তা পরিস্কার। বারবারই দলীয় কোন্দলে নানা ঘটনা ঘটেই চলেছে ক্যানিং এবং জয়নগরে। ক্য়ানিং-এ যুব তৃণমূল কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেকার বিরোধ সর্বজন বিদিত। এই ঘটনায় গুলি, বোমাবাজি যেমন হয়েছে, তেমনি প্রাণেরও বলি হয়েছে। সম্প্রতি এই দলীয় কোন্দলের জেরে জয়নগরে বিধায়কের গাড়িতে সিনেমার স্টাইলে শ্যুট আউট হয়। এতে ৩ জনের মৃত্যুও হয়েছে। দলীয় কোন্দল মেটাতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু, তাতেও পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণে আসেনি তা এদিনের ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল।
দেখুন সেই ভাইরাল ভিডিও--












Click it and Unblock the Notifications