এ কোন অশনি সঙ্কেত! ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের আগেই বাংলায় হানা টর্নেডোর
এখন ধেয়ে আসেনি সাইক্লোন। আতঙ্কের প্রহর গুনছে বাংলা। এখনও পর্যন্ত প্রবল শক্তি নিয়ে সাইক্লোণ ইয়াস কোথায় আঘাত হানবে সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ওডিশায় বলা হলেও দিঘা সংলগ্ন এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।
এখন ধেয়ে আসেনি সাইক্লোন। আতঙ্কের প্রহর গুনছে বাংলা। এখনও পর্যন্ত প্রবল শক্তি নিয়ে সাইক্লোণ ইয়াস কোথায় আঘাত হানবে সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ওডিশায় বলা হলেও দিঘা সংলগ্ন এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।

এই অবস্থাতেই বাংলার আকাশে হঠাত টর্নেডো। আতঙ্কে হুলস্থুল অবস্থা। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রশাসনের আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল টর্নেডোর। তবে হঠাত শহর এবগ শহরতলির আকাশে এমন অবস্থা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে হুগলির ব্যান্ডেল এবং উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি, হালিশহর, বীজপুর সহ একাধিক অঞ্চলে আচমকা হানা দেয় এই ঝড়। কয়েক মুহূর্তের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় ওই সব এলাকা। ঝড়ের জেরে দোকান উড়ে পড়ে খালে। ভেঙে পড়ে গাছপালাও।
মঙ্গলবার দুপুরে হঠাত করেই ঝড় বয়ে যায় ব্যান্ডেলে। ব্যাপক প্রভাব পড়ে নৈহাটি এবং হালিশহরেও। হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ ব্যান্ডেল চার্চ সংলগ্ন খেলনার দোকান উড়ে গিয়ে পড়ে রসভরা খালে।
গাছ পড়ে একাধিক বাড়ির চালও ভেঙে পড়ে। কয়েকটি বাড়ির টিনের চাল পাক খেতে খেতে উড়ে যায় বহু দূরে। জানা যায়, প্রায় ৪০টিরও বেশি বাড়ি ভেঙে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস (cyclone yaas) উপকূলের অনেকটাই কাছে পৌঁছে গিয়েছে। রাত কাটিয়ে সকাল হলেই তা একেবারে উপকূলে পৌঁছে যাবে। জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর (weather office)।
ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সারারাত উপান্নে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জারি করা আবহাওয়া দফতরের স্পেশাল বুলেটিনে দুপুর আড়াইটেয় ঝড়ের অবস্থানের কথা বলা হয়েছে।
সেই সময় ইয়াসের অবস্থান ছিল ১৯.১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষারংশ এবং ৮৮.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। যা পারাদীপ থেকে ২০০ কিমি দক্ষিণ পূর্বে, বালাসোর থেকে ২৯০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণ পূর্ব, দিঘা থেকে ২৯০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণ পূর্বে এবং সাগরদ্বীপ থেকে ২৮০ কিমি দক্ষিণে এর অবস্থান ছিল।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে আগামী ৬ ঘন্টায় এই ঘূর্ণিঝড় অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এবং বুধবার দুপুর নাগাদ ওড়িশার ধামরা বন্দরের উত্তর আর বালাসোরের দক্ষিণে সেটি ল্যান্ডফল করবে।
মঙ্গলবার বিকেলে দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সবকটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে বিশেষভাবে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জন্য।
এর মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদে।
আগামী দু-তিনদিন দিনের তাপমাত্রার সেরকম কোনও পরিবর্তন না হলেও, এরপর তাপমাত্রা ২-৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications