তিন মাসের মধ্যে বিজেপির প্রথম একাদশে ভাঙন! নাড্ডার সফরের আগে ফের বোঝালেন কুণাল ঘোষ
তিন মাসের মধ্যে বিজেপির প্রথম একাদশে ভাঙন! নাড্ডার সফরের আগে ফের বোঝালেন কুণাল
বঙ্গ বিজেপিতে শীর্ষস্তর থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত ভাঙন জল্পনায় কাঁপতে শুরু করেছে। আদি বনাম নব্য, নব্য বনাম তৎকাল, তৎকাল বনাম পরিযায়ী বিবাদে দীর্ণ বঙ্গ বিজেপি। কেন্দ্রীয় বিজেপি ফুল সাপোর্ট দিয়েও বঙ্গ বিজেপিকে শক্তিশালী করতে পারেনি। বরং দিনের পর দিন ভিত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে বিজেপির। এরই মধ্যে জেপি নাড্ডা আসছেন পথ দেখাতে। আর তাঁর সফরের আগে তৃণমূলী চ্যালেঞ্জ বিজেপিতে ভাঙনের।

তিন মাসের সময়সীমা বিজেপিকে
সরাসরি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, নাড্ডাজি যাঁদের সঙ্গে মিটিং করবেন, তাঁদের তিন মাস ধরে রাখতে পারবেন তো! তাঁর কথায় তিনি বোঝাতে চেয়েছেন তিন মাসের মধ্যে বিজেপিতে ফের ভাঙন ধরবে। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে বড় কোনও দলবদল আসন্ন। তার জেরেই বঙ্গ বিজেপির মধ্যে ফের জোরালো ভাঙন জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিজেপি তৃণমূলের চর, অনুশাসনের ঘাটতি
সম্প্রতি বিজেপির অন্দরে তৃণমূলের চর রয়েছে এবং তাঁরাই দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তা নিয়ে দলের অন্দরে বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে বিজেপি। আবার তিনি বিজেপিতে অনুশাসনের ঘাটতি রয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন। তাঁর এহেন বিবৃতি নিয়েই বিজেপি বনাম তৃণমূলের তরজা শুরু হয়েছে।

চর : বিজেপি বনাম তৃণমূলের তরজা
সম্প্রতি বিজেপিতে তৃণমূলের চর রয়েছে বলে যে বিতর্কের অবতারণা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, সব রাজনৈতিক দলেই চর থাকে। তৃণমূলের চর যেমন বিজেপিতে রয়েছে, বিজেপির চরও তৃণমূলের অন্দরে রয়েছে। এরপর কুণাল ঘোষ তাৎপর্যপূর্ণ বিবৃতি দেন। তিনিও পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

বিজেপির প্রথম একাদশে নজর তৃণমূলের
সুকান্ত মজুমদারকে জবাব দিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি ১০ জন শীর্ষ নেতাকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে বৈঠক করুন। বৈঠকে কী কথা হল সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ বলে দেব। অর্থাৎ তৃণমূলের এই মুহূর্তে এতটাই আত্মবিশ্বাস যে বিজেপির কোন নেতা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন তা তাঁদের নখদর্পণে। আবার তিনি বলেন বিজেপির ৮০ শতাংশ নেতা বেঁকে বসে আছেন। তৃণমূলে পা বাড়িয়ে আছেন তাঁরা। শুধু একটা সংকেতের অপেক্ষা।

তৃণমূলের মাইনে করা মীরজাফরদের কাজ!
এরই মধ্যে আবার আরএসএসের মুখপত্রে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ঘর ওয়াপসির সম্ভাবনার খবর ছাপানো হয়েছে। লেখা হয়েছে- কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ঘর ওয়াপসি হতে পারে। উত্তর সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে সে কথা। আরএসএস-পন্থী প্রত্রিকা বিজেপিতে ভাঙন জল্পনা উসকে দিয়েছে। তারপর লকেট চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে বিজেপি, তা প্রমাণেই বিজেপিতে থাকা তৃণমূলের মাইনে করা মীরজাফরা এই কাজ করতে পারেন। তাঁরাই এসব করছেন, ২০২৪-এর আগে এইসব চরেরা চিহ্নিত হবেন।

বিজেপির প্রথম একাদশের কোন প্লেয়ার টার্গেট তৃণমূলের
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি অর্জুনের পর লকেট চট্টোপাধ্যায় দল ছাড়তে চলেছেন। তিনি কি এবার তৃণমূলে ফিরবেন? মোট কথা তৃণমূলের লক্ষ্যে যে বিজেপির প্রথম একাদশের কোনও প্লেয়ার রয়েছে, তা তাঁদের কথাতেই উঠে আসছে। বিজেপির অন্দরে তৃণমূলের চর, তার পরিপ্রক্ষিতে প্রথম দশ জনকে নিয়ে বৈঠকের খবর ফাঁসের চ্যালেঞ্জের কথায় তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

বিজেপি আবার কি ফিরতে পারবে সঠিক লাইনে
বিজেপিতে ডামাডোল চলছে একুশের নির্বাচনের পর থেকে। তা প্রশমিত করতেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা আসছেন বাংলায়। কিন্তু তাঁর আগমনে এই রোগ সারিয়ে বিজেপি আবার কি ফিরতে পারবে সঠিক লাইনে, তা-ই দেখার। দলের অন্দরের খবর বাইরে বেরিয়ে আসা, সরাসরি চরের উপস্থিতি স্বীকার করে নেওয়া দলের দুর্বলতা প্রকট করে দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications