তৃণমূলের একটা দিক পচে গিয়েছে! ২০২৪-এর আগে অস্বস্তি বাড়ালেন দলেরই হেভিওয়েট সাংসদ
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ আর গরু-পাচারকাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন অনুব্রত। দলের দুই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারের পর অস্বস্তি বাড়ালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ আর গরু-পাচারকাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন অনুব্রত। দলের দুই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারের পর অস্বস্তি বাড়ালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার। প্রাক্তন আইএএস প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও কিছুতেই মানতে পারছেন না দলের এই পচন। ২০২৪-এর নির্বাচনের আগে তাই স্পষ্ট বার্তা দিলেন।

তৃণমূল সাংসদের হীন্মন্যতা ২৪-এর আগে
রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার বলেন, একটা আদর্শ ও লড়াইয়ে সামনে রেখে তৃণমূলে এসেছিলাম। সাংসদ হয়ে গিয়েছিলাম পার্লামেন্টে। একটা দল যে দেশের বুকে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করছে, ক্যানসার ছড়িয়ে দিচ্ছে গোটা দেশে, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যম হিসেবেই তৃণমূলকে বেছে নিয়েছিলাম। ২০২৪-এ বিজেপিকে হটাতে ঝাঁপিয়ে পড়া হবে, সেই লক্ষ্যে স্থির ছিলাম, কিন্তু যা ঘটে গেল হীন্মন্যতা বোধ কাজ করছে মনের ভিতরে।

কোথায় যেন একটা খারাপ লাগা কাজ করছে
তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে লড়াইয়ের সেই অদম্য ইচ্ছা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। এখনও তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমি বা আমার মতো অনেকেই মনে করেন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনিই আদর্শ। কিন্তু কোথায় যেন একটা খারাপ লাগা কাজ করছে। কিছুতেই মানতে পারছি না, দুর্নীতি হবে, তাও আবার এভাবে!

দুর্নীতির এমন রূপ দেখব কল্পনা করিনি
জহর সরকারের কথায়, সব দলেই দুর্নীতি আছে, কেউ ধোওয়া তুলসি পাতা নয়। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী যেভাবে তাঁর ইমেজে কালী ছিটিয়েছেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন হচ্ছে। রাজনীতির জন্য নির্বাচনের জন্য প্রত্যোক রাজনৈতিক দলই কিছু বেনিয়ম করে, তা বলে দুর্নীতির এমন রূপ দেখব কল্পনা করিনি। দুর্নীতির টাকায় বান্ধবীকে ফ্ল্যাট দেব, অলঙ্কৃত করব, ভাবতে পারছি না।

অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের
তাঁর কথায়, আমরা যে সংস্কৃতি দেখেছি, স্বাধীনতার জন্য বাড়ির মা-বোনেরা গায়ের গয়না খুলে দিয়েছে। আর এখন দেখছি পুরো তার উল্টো। তৃণমূলের একটা দিক পচে গিয়েছে। এখন এই পচা শরীর নিয়ে ২০২৪-এর নির্বাচন লড়া কতটা সম্ভব হবে বলা যাচ্ছে না। এমন দল নিয়ে কী করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে, সেটাই ভাবনা। তিনি অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের।

দলে পচন, তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে আস্থা
২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন প্রাক্তন আমলা জহর সরকার। এখনও চার বছর মেয়াদ রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে তিনি তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে আরও বলেন, বাড়ির লোকেরা ও বন্ধু বান্ধবেররা তাঁকে রাজনীতি ছাড়তে বলেছিলেন। তিনিও মন থেকে সাড়া পাচ্ছেন না। তবু তিনি তৃণমূলের সাংসদ পদ এখনও ছাড়েননি। কেননা কেউ তাঁকে বলুক, নাটক করার জন্য ইস্তফা দিয়েছেন বা পালিয়ে গেলেন, সেটা তিনি চান না। এখনও তিনি মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সম্মান দিয়েছেন, আর দলে পচন ধরলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে এখনও লড়াইয়ের আগুন দেখতে পাচ্ছেন। এটাই যা সম্বল।

২০২৪-এ দিল্লির লড়াইটাই শেষ লড়াই!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ২০২৪-এ দিল্লির লড়াইটা তাঁর শেষ লড়াই। সেইমতো তিনি লড়াইকে শক্তিশালী করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। ঠিক সেই সময়েই সিবিআই ও ইডি গ্রেফতার শুরু করেছে দুর্নীতি-কাণ্ডে। আর এই অবস্থায় তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন, ২০২৪-এ বিজেপিকে হারাতে না পারলে আর কোনওদিন নির্বাচন হবে কি না সন্দেহ। উল্লেখ্য ২০২১ সালে দীনেশ ত্রিবেদীর জায়গায় তাঁকে সাংসদ করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications