Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

রাজ্য সরকারের অসহযোগিতাতেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ হচ্ছে না, বড় দাবি শুভেন্দুর

রাজ্য সরকার সীমান্তে বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তরে সহযোগিতা না করায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। আজ এই মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ বাড়ছে, যা পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসে পরিবর্তন আনছে এবং কিছু স্থানে হিন্দু উৎসব পালনেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, "ত্রিপুরা, অসম এবং মেঘালয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেড়ার কাজ ১০০ শতাংশ শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা অসম্পূর্ণ।" তাঁর মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পর কেবল বিজেপি সরকারই এই সকল সমস্যা বন্ধ করতে পারবে।

শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন যে, যখনই সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গ ওঠে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগীরা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর ওপর চড়াও হন। তাঁর দাবি, অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী এবং জাল পরিচয়পত্র, রেশন কার্ড বা প্যান কার্ড আটকের ঘটনা ঘটলেই টিএমসি নেতৃত্ব বিএসএফ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্র এবং বিজেপিকে দোষারোপ করে।

তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে ঝাঁটা ও রান্নার সরঞ্জাম নিয়ে বিএসএফ-কে আক্রমণের জন্য উস্কানি দেন এবং তাঁর কয়েকজন মন্ত্রীও এই বাহিনীর বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেন।" শুভেন্দু অধিকারী আরও উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য জমি সরবরাহ করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারেরই। ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণ করতে হয় রাজ্য সরকারকেই।

গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের একটি আদেশ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া বসানোর জন্য রাজ্যের ৯টি জেলায় যে জমি ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং যার ক্ষতিপূরণ কেন্দ্র থেকে রাজ্য পেয়েছে, তা আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

শুভেন্দু দাবি করেন, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একাধিকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং রাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করেনি। তিনি বলেন, "এই রাজ্য সরকার বেড়া তৈরির জন্য জমি হস্তান্তর করেনি, যা বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ছিল।"

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে এক দলীয় কর্মীসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ কেবল এই সীমান্তবর্তী রাজ্যকেই নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, "অমিত শাহ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত বেড়ার কাজ শেষ করবে।"

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতেই হাইকোর্ট এই নির্দেশ দেয়। আদালত বলেছে যে, রাজ্যের উল্লেখিত ৯টি জেলায় ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করা জমির হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে, যার জন্য কেন্দ্র থেকে ক্ষতিপূরণও পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের এই ৯টি জেলা হল উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার। জনস্বার্থ মামলাকারী জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬.৭০ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২,২১৬.৭০ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গেই অবস্থিত, যা দেশের মধ্যে দীর্ঘতম।
মামলাকারী আরও দাবি করেছেন যে, সীমান্ত বেড়ার জন্য বিএসএফকে জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। এর ফলস্বরূপ, মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট অপরাধ, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+