অধ্যক্ষ সংবিধান মানেন না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষিপ্ত-বিচলিত, বিধানসভায় নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর
স্বাস্থ্য দফতর-স্বরাষ্ট্র দফতর নিয়ে ডোন্টকেয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অধ্যক্ষ আইন মানেন না। এইসব অভিযোগ নিয়েই সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় আইন না মানার অভিযোগও তিনি তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিচলিত হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব ঘেটে দেওয়ার কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলনেতা।

আলোচনায় থাকেন না মুখ্যমন্ত্রী
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেছেন, একদিকে অধ্যক্ষ যেমন অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনা করতে দেন না, ঠিক তেমনই গত ১২ বছর মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য দফতর নিয়ে কোনও আলোচনা করতে দেননি। বিষয়টিতে বেআইনি বলে অভিযোগ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, দলের সদস্যরা বিধানসভার বাইরে ও ভিতরে প্রতিবাদ করেছেন। বিজেপি বিধানসভায় আসল বিরোধীর কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যক্ষ ছাড়বে না বিজেপি
বিরোধী দলনেতা বলেছেন, বিজেপি অধ্যক্ষকে ছাড়বে না। অধ্যক্ষের কাজকে বেআইনি অ্যাখ্যা দিয়ে তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এব্যাপারে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিষয়টির শেষ দেখে তারা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। অন্যসব আলোচনা হলেও, কেন অস্থানা নিয়ে আলোচনা হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই অধ্যক্ষ সংবিধানকে মানেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শিশু মৃত্যু নিয়ে বিচলিত নন মুখ্যমন্ত্রী
এদিন বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, কলকাতায় একের পর এক শিশু মৃত্যু নিয়ে বিচলিত নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা বসার পরেও তিনি বিধানসভার মধ্যে কেন বিবৃতি দিলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে শিশুর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন, ভেন্টিলেটর না থাকার কারণে মৃত্যু, তা নিয়ে কেন কোনও বিবৃতি দিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী, প্রশ্ন করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী ক্ষিপ্ত, বিচলিত
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষিপ্ত, বিচলিত। কারণ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পরে সারদা কাণ্ডে ফের একবার সারা ভারতে চর্চিত হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, এই মুখ্যমন্ত্রী আজ খুব বিচলিত কারণ, তিনি রেলমন্ত্রী থাকার সময় রেলের আইআরসিটিসির সঙ্গে সারদা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের চুক্তি করিয়েছিলেন। এই মুখ্যমন্ত্রী তারা বাংলায় বেতন দিয়েছিলেন ত্রাণ তহবিল থেকে। যেখানে টাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন-গৌতম কুণ্ডুর মতো লোকেরা। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিচলিত কারণ, তাঁর ছবি কিনেছিল সুদীপ্ত সেন, গৌতম কুণ্ডুরা। মুখ্যমন্ত্রী বিচলিত কারণ তিনি, মহাকরণের সামনে থেকে সারদার অ্যাম্বুলেন্স চালু করেছিলেন। প্রসঙ্গত এদিন সকালে সারদা কাণ্ডে সিবিআই কেন সক্রিয় নয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।












Click it and Unblock the Notifications