সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে, আপাতত বহাল মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ
প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়কে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ে স্থগিতাদেশ দিল। হাইকোর্ট তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিধায়ক পদ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল, কারণ তিনি বিজেপি ছেড়ে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এক অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে তা জারি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, হাইকোর্টের এই রায় আপাতত স্থগিত থাকবে এবং আবেদনের ভিত্তিতে নোটিশও জারি করা হয়েছে। মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশুর আইনজীবী প্রীতিকা দ্বিবেদী সুপ্রিম কোর্টে জানান, প্রবীণ এই নেতা অসুস্থ। তাঁর দাবি, হাইকোর্ট বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করে তাঁর সংকীর্ণ বিচারিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আইনজীবী আরও বলেন, স্পিকার দলত্যাগের আবেদন খারিজ করেছিলেন কারণ মুকুলের কথিত দলবদল বিষয়ক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো প্রমাণ আইনের ৬৫বি ধারা অনুযায়ী যাচাই করা হয়নি।
হাইকোর্ট স্পিকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের দশম তফসিল (Tenth Schedule) অনুযায়ী কার্যক্রমের জন্য ৬৫বি ধারার কঠোর প্রয়োগ জরুরি নয়। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও অম্বিকা রায়ের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট গৌরব আগরওয়াল বলেন, মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রকাশ্যে বিরোধী দলে যোগ দিয়ে দলবদল করেছেন। তিনি মুকুল রায়ের ছেলের আবেদন জানানোর বৈধতা (locus standi) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বেঞ্চ এর জবাবে উল্লেখ করে, "যদি তিনি (মুকুল রায়) গুরুতর অবস্থায় থাকেন, তবে পরিবারের সদস্য কেন আবেদন জানাতে পারবেন না? তাঁকেও তো একজন প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।" প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এআই (AI) দ্বারা তৈরি ভিডিওর উপস্থিতির কারণে ইলেক্ট্রনিক প্রমাণ যাচাই হওয়া আবশ্যক।
গৌরব আগরওয়াল আদালতের স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করে বলেন যে, তিনি প্রাথমিকভাবেই দলবদল প্রমাণ করতে পারেন। তবে বিধানসভার মেয়াদ আর কয়েকমাস পরই শেষ হচ্ছে উল্লেখ করে বেঞ্চ রায় স্থগিত রাখে। আদালত আরও বলে, "যদি তিনি আবার বিধায়ক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তখন আপনারা আবেদন করবেন। তখন কী করতে হবে, আমরা দেখব।"
উল্লেখ্য, এই মামলায় হাইকোর্ট দলত্যাগ বিরোধী আইন ব্যবহার করে প্রথমবার কোনও নির্বাচিত বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করতে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। এই পদক্ষেপ দেশের বিচার ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
২০২১ সালের মে মাসে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েও, একই বছরের জুন মাসে মুকুল রায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তখন তাঁর বিধায়ক পদ অক্ষুণ্ণ ছিল। পরবর্তীতে হাইকোর্ট জানায়, ২০২১ সালের ১১ জুন থেকে তাঁর সদস্যপদ অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়।
হাইকোর্ট ২০২২ সালের ৮ জুন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই আদেশও বাতিল করে দেয়, যেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুকুল রায়ের অযোগ্যতা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করা হয়েছিল। স্পিকারের সামনে শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনের সমান্তরালভাবে বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়ের একটি অনুরূপ আবেদনও শোনা হয়েছিল, যা হাইকোর্ট মঞ্জুর করে।
হাইকোর্ট ঘোষণা করে: "২০২১ সালের ১১ জুন থেকে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল এবং ১৯৮৬ সালের নিয়ম অনুসারে মুকুল রায়কে অযোগ্য ঘোষণা করা হল।" আদালত পর্যবেক্ষণ করে, অম্বিকা রায়ের প্রমাণ অনুযায়ী স্পিকারের সিদ্ধান্ত 'স্বেচ্ছাচারী' ছিল। আদালত মন্তব্য করে, "উপস্থাপিত তথ্যের নিরিখে কোনও যুক্তিবাদী ব্যক্তি স্পিকারের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারত না। প্রতিদ্বন্দ্বী দাবি মূল্যায়নে তিনি ভুল মাপকাঠি ব্যবহার করেন।"
বেঞ্চ আরও জানায়, বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে মুকুল রায় ২০২১ সালের ১১ জুন বিজেপি থেকে তৃণমূলে চলে গিয়েছিলেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, "মুকুল রায়ের এই ধরনের কার্যকলাপ দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁর অযোগ্যতাকে তুলে ধরে।"
মুকুল রায়ের দলবদলের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৭ জুন স্পিকারের কাছে তাঁর অযোগ্যতা চেয়ে একটি আবেদন জমা পড়ে। তবে স্পিকার ২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তা খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় বিচারের নির্দেশ দেয়।
হাইকোর্ট আরও মন্তব্য করে যে, স্পিকার অযোগ্যতা বিষয়ক আবেদন নিষ্পত্তিতে আইন ভুলভাবে প্রয়োগ করেছেন এবং তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা করে রায় দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের ৮ জুনের সিদ্ধান্তে তিনি আবারও মুকুল রায়কে বিজেপি বিধায়ক হিসাবে বহাল করে ভুল করেছিলেন।
মুকুল রায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের বিষয়টি শাসকদলের অফিসিয়াল 'এক্স' (আগে টুইটার) হ্যান্ডেল থেকেও প্রকাশিত হয়েছিল, যা তাঁর দলবদলের প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হয়।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভোটের আগে তালিকা সংশোধনে তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ -
এবার একটা বড় খেলা হবে, নানুরে মন্তব্য মমতার -
বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটের আগে বিতর্ক, তৃণমূল প্রার্থীর শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টে বিজেপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ -
সকালেই বিজ্ঞপ্তি, রাতের মধ্যেই মনোনয়ন জমা, রাজ্যে ভোটের আবহে তৎপর প্রার্থীরা -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
বাংলায় বিজেপি নাকি তৃণমূল, কারা গড়বে সরকার? কী বলছে সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা -
ভোটের ময়দানে প্রস্তুত বিজেপি! আরও ১৩টি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা পদ্ম-শিবিরের, কোথায় কে? জেনে নিন -
ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন! কতজনের নাম রয়েছে? বাদের খাতায় কত জন? -
বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটের আগে বিতর্ক, তৃণমূল প্রার্থীর শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টে বিজেপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ








Click it and Unblock the Notifications