RG Kar Incident: জেদ-রাজনীতি নেই, দাবি মানলেই মিটবে সমস্যা! রাজ্য সরকারের মনোভাবে হতাশ জুনিয়র চিকিৎসকরা
RG Kar Incident: কোনও জেদ নেই শর্ত দেওয়ার পিছনে। দাবি মানলেই সমস্যা মিটতে পারে, আমরাও কাজে ফিরতে পারি। সাফ জানিয়ে দিলেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচার, দোষীদের শাস্তি, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ তদন্তের পথে বাধাদানকারীদের শাস্তির দাবিতে অনড় আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বক্তব্যকে হাতিয়ার করে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। চন্দ্রচূড় কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কোনও রায় বা নির্দেশ দেননি। তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে কর্মবিরতি প্রত্যাহার না করা হলে যদি সরকার কোনও পদক্ষেপ করে তা ঠেকানো যাবে না।
ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবন সাফাই অভিযানে গিয়ে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের অবস্থান ৩০ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। টানা ২ দিন বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবে হয়নি। খোলা মনে বৈঠক হোক, কোনও শর্ত না রেখেই, মত সরকারের। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের পাল্টা দাবি, বৈঠকে তাঁদের দাবি নিয়ে আলোচনা হোক। তাঁরাও খোলা মনে আলোচনায় প্রস্তুত।
এরই মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ভোর ৩টে ৪৯ মিনিটে মেল পাঠানো হয়েছে সিএমওতে। এটা কি স্বাভাবিক? এতেই বোঝা যাচ্ছে এর পিছনে রাজনীতি রয়েছে। যদিও আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের পাল্টা দাবি, তাঁদের আন্দোলন অরাজনৈতিক।
জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে বলা হয়, নবান্নের এসি ঘরে বসে থাকা ব্যক্তিরা যদি হতাশ হন, তাহলে স্বাস্থ্য ভবনের বাইরে রাতভর অবস্থান করে আমরাও হতাশ। অভয়ার মৃত্যু হয়েছে। নারকীয় ঘটনার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে। আন্দোলনে সাধারণ মানুষ সামিল। আমাদের কাছে রাত-দিন এক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সকলের অভিভাবক। তাঁর সঙ্গে বৈঠক আপদকালীন পরিস্থিতিতেই। ফলে ভোররাতে মেলে রাজনীতি নেই।
জুনিয়র চিকিৎসকদের সংগঠনের আরও দাবি, সরকারের তরফে শুধু নিরাপত্তার বিষয়টিই বলা হচ্ছে। আমাদের তো আরও দাবি রয়েছে। সেগুলি নিয়ে কিছু বলা হচ্ছে না। আগেও নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের আশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটেনি। আর রাজ্যে ৯৩ হাজার চিকিৎসকের সাড়ে ৭ হাজার জুনিয়র চিকিৎসক। সেই শিক্ষানবীশদের জন্য যদি স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়ে তার দায় স্বাস্থ্য দফতরেরই।
কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নবান্ন সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন শিল্প সংক্রান্ত বৈঠকের ফাঁকে জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে বলেন, ওরা কেন এত জেদ করছে? ওরা যা বলবে সব মানতে হবে? আমি ওদের সময় দিতে রাজি। সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার তো মানতে হবে। ওদের আরও একবার বোঝাও।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসা সরকারকে কেউ বলে পারে না কোন অফিসার থাকবে, কে থাকবেন না। খোলা মনে আলোচনা করতে গেলে শর্ত দিয়ে হয় না। এভাবে আলোচনার পরিসর তৈরি হয় না। মুখ্যমন্ত্রী এ সব কথাও বলেছেন বলে দাবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।
তা নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলেন, আমরাও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে বাধ্য। তবে আমাদের কোনও জেদ নেই। আমাদের দাবিদাওয়াগুলি নিয়ে সরকার সদর্থক মনোভাব এখনও দেখায়নি। সমস্যা মিটলে সকলে কাজে ফিরতে প্রস্তুত। তাছাড়া সিনিয়ররা বেশি সময় ডিউটি করছেন, তাঁরা সেভাবেই আন্দোলন সমর্থন করছেন। কিন্তু পরিষেবা ভেঙে পড়া, মৃতের সংখ্যা দেখিয়ে তাঁদেরও অসম্মান করা হচ্ছে। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, এই পরিস্থিতির দায় জুনিয়র চিকিৎসকদের নয়। তাঁদের উপরই পরিষেবা নির্ভরশীল হলে তা স্বাস্থ্য দফতরেরই ব্যর্থতা।












Click it and Unblock the Notifications