Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

জনজাতিদের মিছিলকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ শিলিগুড়ি, বেশ কয়েকজন আহত, সরব শুভেন্দু

এক আদিবাসী গর্ভবতী মহিলাকে মারধরের প্রতিবাদে বের হওয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে আজ অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় শিলিগুড়িতে। উত্তরবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় উত্তরকন্যার দিকে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে।

তিনবাত্তি মোড়ের কাছে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে অন্তত ১৬ জনকে। আহতদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিজেপি-সমর্থিত জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ 'উত্তরকন্যা অভিযান'-এর ডাক দেয়, যেখানে ডিসেম্বরে ফাঁসিদেওয়ায় মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়। অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে মহিলার সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় ও ফাঁসিদেওয়া বিধায়ক দুর্গা মুর্মু সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা জলপাই মোড় থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে অংশ নেন।

পুলিশ আগেই একাধিক ব্যারিকেড ও জলকামান মোতায়েন রেখেছিল। তিনবাত্তি মোড়ে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই গণ্ডগোল শুরু হয়। অভিযোগ, তাঁরা টায়ার জ্বালিয়ে পরপর পুলিশের ব্যারিকেড পেরোতে চাইলে পুলিশ প্রথমে জলকামান, পরে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় "হালকা" লাঠিচার্জও করা হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের হাতাহাতিতে ব্যস্ত মোড়টি সাময়িকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, "আমরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে উত্তরকন্যার দিকে যাচ্ছিলাম। পুলিশ আমাদের আটকে জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে। আমি এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিলাম এবং সহকর্মীরা আমাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছিল। এটা অনৈতিক এবং অগণতান্ত্রিক।"

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, আদিবাসী মহিলাকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে। তিনি আদিবাসী মহিলার উপর হামলার নিন্দা জানালেও বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গৌতম দেব বলেন, "আমরা আদিবাসী মহিলার উপর এই হামলার নিন্দা জানাই। কিন্তু যেভাবে বিজেপি সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে এবং ঘটনাটিকে রাজনীতির রঙ দিচ্ছে, তাও নিন্দনীয়। আইনের নিজস্ব গতিতে চলা উচিত।

প্রকৃতপক্ষে এই প্রতিবাদের সূত্রপাত গত ২৩ ডিসেম্বর ফাঁসিদেওয়া থানার ঝামাকলাল গ্রামে। সেখানে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বচসা শুরু হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষের সময় সাত মাসের গর্ভবতী এক আদিবাসী মহিলাকে মারধরের অভিযোগে একজন সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ওই মহিলা ৮ জানুয়ারি একটি অপরিণত শিশুর জন্ম দেন এবং তিন দিন পর নবজাতকটি মারা যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত আরও চার ব্যক্তি এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক।

গত এক সপ্তাহে ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যপাল এবং তফসিলি উপজাতিদের জাতীয় কমিশন সহ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। আগেও অভিযোগ উঠেছিল যে, এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হলেও দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবারের এই সহিংসতা এই অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগ করলেও, পুলিশ দাবি করেছে যে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করার পরেই বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, "আজ শিলিগুড়িতে এক অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলার ওপর বর্বরোচিত হামলার জঘন্য অপরাধের বিচার এবং জবাবদিহির দাবিতে উত্তরকন্যা অভিমুখে পদযাত্রা করছিলেন নিরীহ আদিবাসী ভাই-বোনেরা। কিন্তু তৃণমূলের ব্যক্তিগত রক্ষীবাহিনীর মতো আচরণ করা এক বেপরোয়া পুলিশ বাহিনী তাঁদের ওপর নির্মম লাঠিচার্জ, জলকামান এবং টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ফাঁসিদেওয়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলাকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়, যার ফলে তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু ঘটে। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা উত্তরকন্যার (উত্তরবঙ্গ রাজ্য সচিবালয়) দিকে মিছিল করছিলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ন্যায়বিচারের প্রশ্নে চোখ বন্ধ করে থাকলেও, অপরাধীদের রক্ষা করতে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সন্ত্রাস নামিয়ে আনতে সক্রিয়। অসংখ্য মানুষ আহত ও গ্রেফতার হয়েছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে-আর এই সবকিছুই করা হয়েছে সরকারের চরম অক্ষমতা এবং অসহায়দের রক্ষা করতে ব্যর্থতাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য।

এটি কোনও শাসন নয়; এটি একনায়কতন্ত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন আমাদের আদিবাসী ভাই-বোনদের বারবার ব্যর্থ করেছে; অন্তহীন নৃশংসতা, শূন্য বিচার এবং এখন তাঁদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপি-র কাছে দাবি জানাচ্ছি যে, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর বিধান অনুযায়ী যে পুলিশ কর্মীরা অকারণে পাশবিক বলপ্রয়োগ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন, আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করুন এবং ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিন।"

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+