বলা নয়, করা আমাদের নীতি, ১৭০০ কোটির গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাসে উন্নয়নের হিসেব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
গঙ্গাসাগর যাত্রার দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে আরও এক বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থেমে থাকে না, কাজের মাধ্যমেই জবাব দেয়। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনের আধুনিক সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে গঙ্গাসাগর পৌঁছনো হবে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য।
সরকারি কর্মসূচির মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে কাকদ্বীপের লট ৮ থেকে কচুবেড়িয়া পৌঁছনোর জন্য আর ফেরি বা ভেসেলের উপর নির্ভর করতে হবে না। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শেষ হওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেতু নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনএনটি সংস্থাকে। মমতার কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসী বার্তা "আমরা মুখে বলি না, কাজে করে দেখাই। বাংলার মানুষ, দেশের পুণ্যার্থী এবং বিশ্বের পর্যটকদের জন্য এই প্রকল্প গর্বের।"

এই সেতু তৈরি হলে গঙ্গাসাগর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলেও জানান তিনি।
গঙ্গাসাগরের মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করান বহুল প্রচলিত প্রবাদটির পরিবর্তিত রূপ "আগে বলা হত, সব সাগর বার বার, গঙ্গাসাগর এক বার। এখন মানুষ বলে সব সাগর এক বার, গঙ্গাসাগর বার বার।"
এই সূত্রে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে সাগরসঙ্গমে এসে হারিয়ে যাওয়ার কাহিনি রয়েছে। তাঁর মতে, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সেই দুর্গমতার অধ্যায় অতীত হবে এবং ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটনে নতুন গতি আসবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সার্বিক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১১ সালের পর থেকে এই জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৩৭টি সেতু নির্মিত হয়েছে। হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীর উপর সেতু তৈরি হওয়ায় বকখালি যাতায়াত যে অনেক সহজ হয়েছে, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি।
সাগরদ্বীপে বিদ্যুৎ পৌঁছনো, সুন্দরবন পুলিশ জেলার গঠন, তিনটি হেলিকপ্টার পরিষেবা, একাধিক জেটি, গঙ্গাসাগর ও কাকদ্বীপে কোস্টাল থানার প্রতিষ্ঠা সবই তাঁর সরকারের আমলের কাজ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। গঙ্গাসাগরে ১০০ শয্যার ডরমেটরি 'সাগরকন্যা', ২০টি কটেজ ও নবান্নের আদলে তৈরি অতিথিনিবাস 'গঙ্গান্ন'.এর কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়া ক্যানিং১ ও ক্যানিং ২ ব্লকে মাতলা নদীর উপর ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আরসিসি সেতুর উদ্বোধন ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, 'আমার পাড়া আমার সমাধান' প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তারও বিস্তারিত তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের একটি বিস্তৃত চিত্রই এদিন তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজই মুখ্য।












Click it and Unblock the Notifications