আমার ওপর যত রাগ, ধর্ষকদের ওপর তো তত রাগ দেখান না! মমতাকে কটাক্ষ মোদীর

বুধবার বাংলায় যে তিনটি জনসভা করলেন নরেন্দ্র মোদী, তাতে ঘুরে-ফিরে এল এই তিনটি ইস্যুই। আর সেই সুবাদে বিঁধলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
এদিন প্রথম জনসভাটি ছিল কৃষ্ণনগরে। দ্বিতীয় জনসভাটি ছিল বারাসতে। আর তৃতীয় তথা শেষ জনসভাটি করলেন কাঁকুড়গাছিতে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল শ্রীরামপুরে এবং ৪ মে বাঁকুড়া ও আসানসোলের জনসভায় নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে যে শরণার্থীরা আসছেন, তাঁদের আগলে রাখা হবে। কারণ ধর্মের ভিত্তিতে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদেরকে ফিরে যেতেই হবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, "একজন বাঙালির গায়ে হাত দিয়ে দেখুন! ক্ষমতা থাকলে কোমরে দড়ি বেঁধে আপনাকে জেলে ঢুকিয়ে দিতাম।"
সেই চাঁছাছোলা আক্রমণে তিনি যে এতটুকুও বিব্রত নন, তা এদিন ফের বুঝিয়ে দেন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, "যাদের এই মাটিতে জন্ম, বড় হওয়া, সেই বাংলার ছেলেরা কাজ পাচ্ছে না। এত বেকারি! বাংলাদেশ থেকে এসে অনুপ্রবেশকারীরা তাদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে। এখানে নানা গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। তারপরও আপনি অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করছেন! ওরা এখন আপনার ভোটব্যাঙ্ক, সেই জন্য? অথচ আপনি ২০০৫ সালে লোকসভায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, সিপিএম বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করছে। সেই দিন আপনাকে বলার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি বলে রেগে গিয়ে ডেপুটি স্পিকারকে কাগজ ছুড়ে মেরেছিলেন। আপনার রাজ্যে মতুয়া সম্প্রদায়ের বাস। ওঁরা তো বাংলাদেশ থেকে চলে এসেছেন। নির্যাতিত হয়েছেন। তাঁদের সবাই এখনও ভারতের নাগরিকত্ব পায়নি। আপনি ওঁদের মঙ্গলে কী করেছেন? ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অনেক আগেই বলেছে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ হল এক ধরনের আগ্রাসন। এর ফলে দেশে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দিদি, আপনি সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশেও কি একই ভাষা ব্যবহার করবেন?"
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ,নারী নির্যাতন ও সারদা কেলেঙ্কারি: তিন ইস্যুতে দাগলেন তোপ
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, এই ইস্যুতে যে কংগ্রেস, সিপিএম আক্রমণ শানাচ্ছে, তাদেরকেও একহাত নেন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, "কংগ্রেসের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল পি এম সঈদ। তিনি ১৯৯৫ সালে বলেছিলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ একটা গভীর সমস্যা। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ, অসমে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। সিপিআইয়ের ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন ১৯৯৬ সালে সংসদে বলেছিলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এক কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। শুধু তাই নয়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলায় যে মাদ্রাসাগুলি আছে, সেগুলো ভেঙে দেওয়া উচিত। কারণ তা দেশ-বিরোধী কার্যকলাপের আখড়া। এখানে অনুপ্রবেশকারীদের যাতায়াত আছে। আর এখন নরেন্দ্র মোদী বলছে বলে আপনারা সাম্প্রদায়িক রং চড়াচ্ছেন! যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তা হলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের এ দেশ থেকে যেতে হবে, যেতে হবে, যেতে হবে।"
ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন নিয়ে তিনি বলেন, "আপনি একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। আপনার রাজ্যে ঘনঘন ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, আপনি চুপ। নরেন্দ্র মোদীর ওপর যত রাগ দেখান, তত রাগ তো ধর্ষণকারীদের ওপর দেখান না! এভাবে কি সরকার চলে?"
এ ছাড়াও, সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে তোপ দাগেন তিনি। বলেছেন, "ওয়েস্ট বেঙ্গল ইজ নাও স্ক্যাম বেঙ্গল। এত বড় কেলেঙ্কারি হল, অথচ দিদি কিছুই করছেন না। সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করা হলে আপনি এত রেগে যান কেন? আপনাকে শুধু বলা হচ্ছে, দোষীদের গ্রেফতার করুন। সাধারণ মানুষ যদি তাঁদের কষ্টের পয়সা ফেরত পান, তা হলে আপনার এত আপত্তি কেন? আপনি নাকি বাংলার মানুষকে ভালোবাসেন? এই তার নমুনা?"
এর পাশাপাশি যথারীতি কংগ্রেস তথা ইউপিএ সরকারকেও বেঁধেন তিনি। বলেন, "মা-ব্যাটা অক্সিজেন জোগাচ্ছে, তাই সরকার চলছে। এই সরকার এতই দুর্বল যে, পাকিস্তান ভারতীয় সেনাদের মুণ্ডু কেটে নিয়ে চলে যায় আর আমাদের সরকার ওদের প্রধানমমন্ত্রীকে ডেকে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ায়।"
এদিনের শেষ জনসভা অর্থাৎ কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ আমায় এত ভালোবাসা দিয়েছে যে, আমি আপনাদের ঘরের ছেলে হয়ে গিয়েছি। ক্ষমতায় এলে সর্বশক্তি দিয়ে বাংলার ভালো করার চেষ্টা করব।"












Click it and Unblock the Notifications