মানিকতলার উপনির্বাচন বিশ বাঁও জলে! ১৫ মাসেও কাটল না গেরো, কোথায় সমস্যা
মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের প্রয়াণের পর থেকেই মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র বিধায়ক শূন্য হয়ে রয়েছে। যেখানে ৬ মাসের মধ্যে শূন্যস্থান পূরণ করা জরুরি, সেখানে এক বছর অতিক্রান্ত, উপনির্বাচন নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এখনও আইনি ঘেরাটোপে অনিশ্চিত উপনির্বাচন, এমনটাই জানা গেল হাইকোর্ট সূত্রে।
রাজনৈতিক মহলে বারবার প্রশ্ন উঠছিল মানিকতলা কেন্দ্রের উপনির্বাচন না হওয়ার পিছনে কোন রহস্য রয়েছে। তার উত্তর মিলল হাইকোর্টে এক জনস্বার্থ মামলায়। কেন উপনির্বাচন হচ্ছে না, অবিলম্বে মানিকতলায় উপনির্বাচন করতে হবে বলে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে। তা খারিজ করে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিচারপতি।

২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী তথা মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সাধন পাণ্ডে প্রয়াত হন। তারপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে্। কিন্তু মানিকতলা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়নি। মাঝে সুব্রত সাহার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সাগরদিঘি কেন্দ্রের উপনির্বাচন সংঘটিত হয় এক মাসের মধ্যেই।
তাহলে কেন হল না মানিকতলা কেন্দ্রের উপনির্বাচন? এই বিষয়ে জানা যায় একুশের নির্বাচনের পরই কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা হয়েছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে তা এখনও বিচারাধীন। সেই কারণেই মানিকতলায় উপনির্বাচন হচ্ছে না। এই আইনি জট না কাটলে নির্বাচন সম্ভব নয়।
১৯৫১ সালের জন প্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে বিধায়ক শূন্য হলে ৬ মাসের মধ্যে উপনির্বাচন সংঘটিত করতে হয়। কিন্তু সাধন পাণ্ডে এক বছর আগে প্রয়াত হন। তারপরও তাঁর মানিকতলা কেন্দ্র বিধায়ক শূন্য। একুশের নির্বাচনের পর পরাজিত বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই কারণেই জটিলতা।

আদালত জানিয়েছে, একুশে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি না হলে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচন সম্ভব নয়। তাই উপনির্বাচনের আর্জি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাও খারিজ হয়ে গিয়েছে পুরো ওই মামলার কারণে। সোমবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবাগ্নাণম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা শুনানি হয়।
এই জনস্বার্থ মামলা শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি করেন। কিন্তু সেই দাবি খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানায়, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনেই রয়েছে, যতক্ষণ না নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ উপনির্বাচন সম্ভব নয়।
প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না পুরনো মামলাটির নিষ্পত্তি ঘটছে, ততক্ষণ ওই কেন্দ্রের নির্বাচন সম্ভব নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যাতে পুরনো মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সেটি দেখতে হবে। তারপরউ সম্ভব উপনির্বাচন। আপাতত উপনির্বাচনের বিষয়টি ঝুলেই রইল আইনি বেড়াজালে।












Click it and Unblock the Notifications