‘স্থগিত রাখা হোক SIR’! কমিশনকে চিঠি মমতার, BJP'র দাবি 'ভোটে হারের ভয়ে তিনি ভীত', আসল ঘটনা কী?
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ অর্থাৎ SIR-কে ঘিরে রাজনীতিতে ভালোই পারদ চড়ছে। আর এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি রাজ্যে ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর-কে গভীর ভাবে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই অনুশীলন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছেন যে, এই প্রক্রিয়াটি পরিকল্পনাহীন ভাবে এবং জোর করে পরিচালিত হচ্ছে, যা নাগরিকদের এবং কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
তিনি লিখেছেন, " চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-কে ঘিরে পরিস্থিতি এখন গভীর উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই আমি আপনাকে লিখতে বাধ্য হচ্ছি, কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের উপর যেভাবে এই অনুশীলন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা শুধুমাত্র অপরিকল্পিত এবং বিশৃঙ্খলই নয়, বিপজ্জনকও বটে।"
বাংলাতেও আসন্ন ভোটের আগে জোরকদমে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর কাজ চলছে। পর পর BLO-দের মৃত্যুর খবরও উঠে আসছে।অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে কোনও কোনও BLO মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অথবা কেউ বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ। এর সেই কারণেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
তাঁর পাঠানো চিঠিতে তিনি আরও বলেছেন যে, " আমি আপনাকে অনুরোধ করছি যে, চলমান এই মহড়া যেন বন্ধ করার জন্য। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া জোর করে করানো এই কাজ বন্ধ করতে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সাহায্য প্রদান করতে। বর্তমান এই পদ্ধতি এবং সময়সীমা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনরায় র্মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে।"
জলপাইগুড়ি থেকে এক BLO-র আত্মঘাতী হওয়ার খবর একদিন আগেই সামনে এসেছে। তিনি এসআইআর-এর কারণে সম্পর্কিত চাপের সম্মুখীন হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। যথাযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জিও জানিয়ে মমতা বলেছেন, 'গতকাল SIR-এর চাপ সহ্য করতে না পেরে জলপাইগুড়ি মালে একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর আত্মঘাতী হয়েছেন। তিনি একজন বিএলও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। SIR-এর শুরুতে এভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। পরিকল্পনাহীন ভাবে হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছে মানুষ এবং নির্বাচনের কাজে যুক্ত আধিকারিকরা।"
তিনি বলেন, " যদি তাড়াতাড়ি এটি সংশোধন করা না হয়, তাহলে ব্যবস্থা, কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের জন্য এর পরিণতি অন্যরকম হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এই হস্তক্ষেপ নেওয়া শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়ই নয়, বরং অপরিহার্য।"
আবার নির্বাচন কমিশনকে লেখা মমতা ব্যানার্জির এই চিঠির পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। তারা বলেছে, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ভোটার কমে যাওয়ার বিষয়ে খুবিই চিন্তিত।
দলের জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী, এক্স (X)-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জীর সমালোচনা করে বলেছেন যে, " এসআইআর কার্যক্রম বন্ধ করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি লেখা মানেই হল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে বিচলিত, তা স্বীকার করা।"
ভান্ডারি আরও লিখেছেন, " বছরের পর বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস নীরবে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো ভোটারদের সুবিধা নিয়ে এসেছে। এখন যেহেতু SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার সংশোধন করা হচ্ছে ও অবৈধভাবে প্রবেশ অপসারণ করা হচ্ছে, সেই কারণে মমতা এখন আতঙ্কিত।"
বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও মমতা ব্যানার্জির আবেদনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন যে, " মমতা ব্যানার্জি এসআইআর প্রক্রিয়ার অভিযোগ এবং নাটকীয়তা দুটোই অব্যাহত রাখবেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরে গেছে যে চাপ বাড়ছে এবং তিনি ২০২৬ সালে আসন্ন নির্বাচনী পরাজয়ের ঝুঁকির মুখোমুখি হতে চলেছেন।"
এদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, মমতা ব্যানার্জির চিঠির পক্ষে কথা বলে এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, " অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে বলেই মুখ্যমন্ত্রী এই চিঠি লিখেছেন। তিনি যথাযথভাবেই তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির চাপের মধ্যে রয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications