বহিরাগতরা ঢুকেই অশান্তি পাকাচ্ছে নন্দীগ্রামে, রাজ্যপালকে ফোন উত্তেজিত মমতার
হিন্দিভাষী গুণ্ডারা অশান্তি করছে, বয়ালে বললেন উত্তেজিত মমতা। তিনি বলেন, 'বিহার ও উত্তরপ্রদেশের গুণ্ডারা এসে ঝামেলা পাকাচ্ছে।
এপিসেন্টার নন্দীগ্রাম। প্রেস্টিজিয়াস ফাইট শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সকাল থেকেই একাধিক অভিযোগ আসতে থাকে নন্দীগ্রামে। ভয় দেখানোর পরিস্থিতি থেকে শুরু করে তৃণমূল এজেন্টদের বসতে না দেওয়া।
একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে। শেষমেশ নিজেই ময়দানে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। আর যে সমস্ত বুথ থেকে অভিযোগ আসছিল সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানে পৌঁছতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা।

দেদার ছাপ্পার অভিযোগ
নন্দীগ্রামের বয়ালে তুমুল উত্তেজনা। বয়াল ১ ও ৭ নম্বর বুথ পরিদর্শনে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকে এই দুটি বুথে দেদার ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে। এমনকি বুথে তৃণমূলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানকার ভোটাররা অভিযোগ করেছেন তাঁদের বুথে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভয় দেখানো হচ্ছে। বাড়ি গিয়ে ভয় দেখিয়ে আসা হচ্ছে। আর সেই খবর পাওয়া মাত্র বয়ানের ওই বুথে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই ৭ নম্বর বুথে পরিদর্শনে যান। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে।

মমতা যেতেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়
সকাল থেকে একের পর এক অভিযোগ নন্দীগ্রামে। কোথাও তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না, বুথে এজেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। ভয় দেখানো হচ্ছে। এমন হাজারো অভিযোগ সামনে আসে। এরপরেই বাড়ি থেকে বের হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭ নম্বর বুথে পৌঁছানো মাত্র অগ্নিগর্ভ চেহারা নয় পরিস্থিতি। জয় শ্রী রাম স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি মমতা কেন এত ক্ষণ বুথের ভিতরে থাকবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে সংবাদমাধ্যমে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে কী পরিস্থিতিতে ভোট করা হচ্ছে, সেটাই তুলে ধরতে চান তিনি। কী ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ভোটলুঠ চলছে, তা দেখুক গোটা দেশ। যদিও রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়, পরিস্থিতি এতটাই অশান্ত যে মমতাকে বুথ থেকে বাইরে বার করার ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্কুলের মধ্যেই বসে মমতা
প্রায় ঘন্টাখানেকের বেশি হয়ে গিয়েছে। এখনও স্কুলের ওই বুথেই বসে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে একেবারে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। কোনও রকমে মানববন্ধন করে রেখেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর না আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

লোক এনে ভোট করাচ্ছে বিজেপি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে ভোট করাচ্ছে বিজেপি। যাদের আনা হয়েছে, তাঁরা কেউ বাংলা জানেন না। বয়ালের ওই বুধে বিজেপি অবাধে ছাপ্পা ভোট করেছে বলে তৃণমূল নেত্র্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মমতা বলেন, ''আদালতে যাব আমরা। কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। ৬৩টা অভিযোগ পেয়েছি।'' শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনঅভিযোগ করেন যে, 'কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে বহিরাগতদের নিয়ে এসে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে। সকাল থেকে ৬৩টি অভিযোগ হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। একটা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। আমরা আদালতে যাব।'

রাজ্যপালকে ফোন
ভয়, সন্ত্রাসের পরিবেশ নন্দীগ্রামে। বুথ থেকেই রাজ্যপালকে ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল ধনকড়কে বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়। নন্দীগ্রামে কি অবস্ত্যহা সেটা ধনকড়কে জানান মমতা। বলেন, হিন্দিভাষী গুণ্ডারা অশান্তি করছে। তাঁর দাবি, 'বিহার ও উত্তরপ্রদেশের গুণ্ডারা এসে ঝামেলা পাকাচ্ছে। আমরা নির্বাচন কমিশনে সকাল থেকে ৬৩টি অভিযোগ জানিয়েছি। আবার অভিযোগ করা হবে।'

শুভেন্দুকে গো ব্যাক স্লোগান
এদিন সকাল থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় টহল দিচ্ছে গোটা নন্দীগ্রাম জুড়ে। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের ৩৫৫ টি বুথ স্পর্শকার্তর হিসাবে ঘোষিত হয়েছে। তারমধ্যে কিছু বুথে শুভেন্দু টহল দিচ্ছেল ভোর থেকেই। আর সেই সময়ই বেলা বাড়তে সাতেঙ্গাবাড়ি এলাকায় তাঁর কনভয় দেখেই 'গো ব্যাক স্লোগান' যায়।












Click it and Unblock the Notifications