সন্দেশখালির ঘটনাতেই কি এলাকা হাতছাড়া হবে তৃণমূলের? লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় BJPকে নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী পিকের
Lok Sabha Election 2024: গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। গত ৫ জানুয়ারি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি যাওয়া ইডির আধিকারিকদের ওপরে হামলার পর থেকেই শিরোনামে সন্দেশখালি। তারপর গত কয়েকদিনে মাঝে মধ্যে মহিলারা একযোগে নানা হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। একের পর এক তৃণমূলর নেতার ওপরে বা তাদের বাড়িতে জনরোষ আছড়ে পড়ছে।
সেই পরিস্থিতিতে সামনে থাকা লোকসভা নির্বাচনে কারা লাভবান হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে বিভিন্ন মহলে। সেই সময় ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর বললেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর জন সমর্থন আদায় করে নিয়েছে। সন্দেশখালির অশান্তি লোকসভা নির্বাচনে তাদের আরও সুবিধা করে দিতে চলেছে বলেই মনে করেন তিনি। বাংলায় যে বিজেপির উত্থান হয়েছে, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

টাইমস নাওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বড় রাজনৈতিক শক্তি। ২০১৯ সালের জয়ী আসন সংখ্যার নিচে তারা যাবে না, বলেছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি আরও বলেছেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা বাড়তে থাকায়, তাদের এলাকা দখলে রাখা কঠিন হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের ৪২ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২২ টি, বিজেপি ১৮ টি এবং কংগ্রেস দুটি আসনে জয়লাভ করেছিল।
২০২১-এর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরামর্শদাতা থাকা প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, তিনি মনে করেন, বিজেপি এবারের লোকসভা নির্বাচনে ২০১৯-এর থেকেও ভাল ফল করবে। দিন কয়েক আগে প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন, টাকা হোক কিংবা মন্দির, সবই ব্র্যান্ড মোদীর অধীনে। সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে ভোট হবে। তিনি বলেছিলেন, রাম মন্দিরের চেয়ে বেশি মানুষ বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন ৩৭০ ধারা বাতিলের কারণে।
এদিকে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের দু'দুবার সন্দেশখালি যাওয়ার পরেও প্রতিদিনই সন্দেশখালির বিভিন্ন জায়গায় ঝাঁটা ও লাঠি হাতে মহিলাদের বিক্ষোভ সামনে আসছে। আর পুলিশ সেই বিক্ষোভফ সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে। মহিলারা এলাকার একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নির্যাতন ও জমি দখলের অভিযোগ করছেন।
সেই পরিস্থিতিতে এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সন্দেশখালির বর্তমান পরিস্থিতিকে নন্দীগ্রামের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে বশ্যতার বিরোধী সংগ্রাম চলছে। নন্দীগ্রাম শুরু হয়েছিল জমি অধিগ্রহণ দিয়ে। সন্দেশখালি শুরু হয়েছে মেয়েদের ওপর অত্যাচার দিয়ে। তার সঙ্গে রয়েছে জমি দখল।
এদিন সন্দেশখালিতে যান পার্থ ভৌমিক, সুজিত বসুর মতো রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। একশো চুয়াল্লাশি ধারা জারি মধ্যে রাজ্যের মন্ত্রীদের এলাকা পরিদর্শনে বাধা দেওয়া না হলেও এদিন সন্দেশখালিতে পুলিশের চোখ এড়িয়ে ঢুকে পড়া ডিওয়াইএফআই রাজ্য সভাপতি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়দের বাধা দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications