বড় নেতা, অনেক বেশি বোঝেন! রামপুরহাট গণহত্যায় অনুব্রতকে নিয়ে কুণালের মন্তব্যে জল্পনা
বড় নেতা, অনেক বেশি বোঝেন! রামপুরহাট গণহত্যায় অনুব্রতকে নিয়ে কুণালের মন্তব্যে জল্পনা
বৃহস্পতিবার তিনি ছিলেন রামপুরহাটের (rampurhat) বগটুই সফররত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) পাশে। দিচ্ছিলেন নানা উপদেশ। আর শুক্রবার তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তৃণমূলের (trinamool congress) মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (kunal ghosh) গলায় কটাক্ষের সুর। তিনি বলেন, বড় নেতা, অনেক বেশি বোঝেন। এর জেরে বগটুই কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আদেশের পরে তৃণমূল কি অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal) নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন অনুব্রত
বরাবরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বলেই পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল। বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে গার্ড করেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার বগটুইয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন স্বজন হারানোদের ব্যাপারে কড়া শাস্তির আশ্বাস দিচ্ছেন, সেই সময় অনুব্রত মণ্ডল বলেন, মামলাটা যেন সূচপুরের মামলার মতো করে সাজানো হয়। কেননা ওই মামলায় অপরাধীরা এখনও জেলে রয়েছে। যা নিয়ে অবশ্য বৃহস্পতিবারেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। অনুব্রতরাই মুখ্যমন্ত্রীকে চালনা করেন বলেও কটাক্ষ করেন বিভিন্ন দলের বিরোধী নেতারা।

টেলিভিশন বিস্ফোরণ মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল
সোমবার রাত আটটনা নাগাদ রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখকে হত্যার দেড়ঘন্টার মধ্যে গ্রামের একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া মহিলা ও শিশুদের মারধর করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় আটজনকে। সেই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে প্রতিক্রিয়া অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, শর্টসার্টিটে টিভিতে বিস্ফোরণ হয়ে সারা বাড়িতে আগুন ছড়িয়েছে। এরপরেই বিরোধী বলতে শুরু করেন, যে জেলায় সারাক্ষণ অনুব্রত মণ্ডল নানা খেলা দেখাচ্ছেন, তিনি কি এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানেন না? তাহলে কোন কারণে এই মন্তব্য, প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে।

কুণাল ঘোষের কটাক্ষ
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া অনুব্রত মণ্ডলের উপদেশ প্রসঙ্গে এদিন কুণাল ঘোষকে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, উনি বড় নেতা, বেশি বোঝেন। একবার নয়, কুণাল ঘোষকে একাধিকবার এই মন্তব্য করতে শোনা যায়। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, ওনার (অনুব্রত) মন্তব্য় সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।

তৃণমূল কি দূরত্ব বাড়াচ্ছে?
সূচপুরের গণহত্যা হয়েছিল বাম শাসনে। যা ছিল তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে। কিন্তু ১১ বছরের শাসনে তৃণমূলের শাসনেও গণহত্যার ছাপ গেলে গিয়েছে বগটুইয়ের ঘটনার জেরে। যা নিয়ে শুরু থেকেই নেতারা সাফাই দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, পারিবারিক গণ্ডগোল। রাজনৈতিক গণ্ডগোল, এই অভিযোগকে মানতে রাজি হচ্ছে না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু ভাদু শেখের বাবা এবং স্ত্রী সবাই বলছেন দলের লোককে বখরা না দেওয়াতেই খুন। সবাইতো তৃণমূল করে বলেছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে অনুব্রত মণ্ডলের সূচপুরের উপদেশ কি তৃণমূল নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছে না। তারপর যখন সেই মামলা সিবিআই-এর হাতে। তাহলে কি তৃণমূল অনুব্রত মণ্ডলের থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করল, সেই প্রশ্নও তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications