Jawhar Sircar: মমতার অনুরোধ ফেরালেন পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় জহর! দল নিয়ে একরাশ ক্ষোভ, অস্বস্তিতে কুণাল
Jawhar Sircar: বেলাগাম দুর্নীতি ও আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জহর সরকার। তাঁর কাছে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জহর সরকারের বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মমতাও জহরকে অনড় অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি।

জহর সরকার আগামী সপ্তাহে দিল্লি গিয়ে সম্ভবত ১২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ জমা দেবেন সংসদে। তার আগে এদিন তিনি চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। মমতা এরপর জহরকে ফোন করেন। সূত্রের খবর, মমতা জহরকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। কিন্তু জহর জানিয়ে দেন, তিনি সামাজিক মাধ্যমেও পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন, পিছু হঠা সম্ভব নয়।
সূত্রের খবর, মমতাকে দিল্লিতে সংসদীয় দলের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি যে খুব একটা স্বস্তিবোধ করছিলেন না সেটাও জানিয়ে দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলেন, বিষয়টি আমি দেখতাম না। আপনি যখন বলছেন তখন এবার থেকে আমি দেখব গোটা বিষয়টি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর তাঁর যে কোনও ক্ষোভ নেই, পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, সে কথাও বলেন প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জনগণের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ করা, আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ইতিবাচক পদক্ষেপেরও অনুরোধ করেন জহর।
জহর সরকারের পদত্যাগের পর তাঁকে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা ও মুখপাত্র আক্রমণ করেন। দেবাংশু ভট্টাচার্য লেখেন, একজন ছেড়েছেন, আরেকজনও ছাড়ুন। স্রোতের অনুকূলে তো কচুরিপানাও ভাসে, যদি উল্টো দিকে সাঁতার কাটতে নাই পারলেন তাহলে মানুষ জন্ম বৃথা! যুদ্ধের সময় যারা পালায় কিংবা গা বাঁচিয়ে চলে, ইতিহাস তাদের লজ্জার নজরে দেখে।
দেবাংশুর ইঙ্গিত সুখেন্দু শেখর রায়ের দিকে বলে মনে করা হচ্ছে। সুখেন্দু অবশ্য এখনও দল ছাড়ার কথা বলেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্যান ক্লাব গ্রুপে অনেকে অভিষেকের নেতৃত্বে নতুন সরকার গড়ার ডাক দিতেই তৃণমূলের ডামাডোল পরিস্থিতি আরও সামনে আসে।
সুখেন্দু এখনও জহরের পথে না হাঁটলেও পদত্যাগী সাংসদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। যদিও অনেকে এমন বলেছেন, জহর সরকারের মতো ব্যক্তিদের সাংসদ করাই ঠিক হয়নি। ফলে ঠারেঠোরে দলনেত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে আজ বিভিন্ন পোস্টে।
এরই মধ্যে তৃণমূলের এক নেতা জহর সরকারের জায়গায় কুণাল ঘোষকে রাজ্যসভার সাংসদ করার দাবি তুলেছেন। টিএমসিপি নেতা সন্দীপন মিত্র এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, আরজি. করের ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যসভার তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জহর সরকার। খুব ভালো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত এই ধরনের অভিজাত লোকদের টিকিট দেওয়া বন্ধ করা।
তিনি আরও লিখেছেন, সাংসদ পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করা ছাড়া গত তিন বছরে তিনি দলের জন্য কী করেছেন? কুণাল ঘোষকে আবার রাজ্য সভায় পাঠানো উচিত। যদিও এরপর কুণাল ঘোষ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, জহর সরকার মহাশয়ের ইস্তফা সংক্রান্ত বা আনুষঙ্গিক কোনো পোস্টে দয়া করে কেউ কোনোভাবে আমার নাম কোনো বিষয়ে উল্লেখ করবেন না।
কুণাল তার আগে সংবাদমাধ্যমে বলেন, জহর সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি যা চাইছেন তার অনেক পয়েন্ট আমরাও চাই। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল যথাযথ পদক্ষেপ করবে। আমরা দলে থেকেই দলের মধ্যে নানা বিষয় তুলে ধরছি।
কাল আরজি কর কাণ্ডের শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকও ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগের দিন জহরের পদত্যাগ ঘিরে শোরগোল।












Click it and Unblock the Notifications