ব্রেকিং: আইপ্যাক-কাণ্ডে জোর ধাক্কা তৃণমূলের! মান্যতা পেল ED'র দাবি, কী জানাল হাইকোর্ট?
রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত ইডির অভিযান ঘিরে আজ কলকাতা হাইকোর্টে মুখোমুখি হয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং তৃণমূল কংগ্রেস। আজ এই মামলার শুনানি হল হাইকোর্টে। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি আদালতে ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার জেরে বিচারককে এজলাস ছাড়তে হওয়ায় শুনানি পিছিয়ে ১৪ জানুয়ারি করা হয়েছিল। আইপ্যাকে ED-র তল্লাশি নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ টিকল না। সুপ্রিম কোর্টে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মামলা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল ED, আর সেই আবেদনকে মান্যতা দিল কলকাতা হাই কোর্ট।

এই মামলায় ইডি আদালতে জানায় যে, আই-প্যাকের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর সময় তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। সংস্থার অভিযোগ যে, আইন মেনে তল্লাশি এবং নথি বাজেয়াপ্ত করতে গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। সেই সঙ্গে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইডির দাবি যে, ওই সময় রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক এবং পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে। যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। সংস্থার তরফে বলা হয় যে, এটি একদম ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা।
অন্যদিকে আবার, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি যে, আই-প্যাক সংক্রান্ত অভিযানে ইডি বেআইনিভাবে রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত কৌশল, সমীক্ষা রিপোর্ট, সাংগঠনিক তথ্য ও ভোটার সংক্রান্ত ডেটা নিয়ে গেছে ইডি। যার সঙ্গে টাকা পাচার অথবা কোনও অপরাধের কোনও সম্পর্ক নেই।
তৃণমূল আদালতে জানায় যে, এই ধরনের তথ্য পুরোপুরি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আর সেই তথ্য বাজেয়াপ্ত করা গোপনীয়তার পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ যে, ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একপ্রকার হেনস্থা।
শুনানিতে ইডির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয় যে, যদি সত্যিই নির্বাচনী তথ্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকে, তবে মামলায় নির্বাচন কমিশনকে পক্ষ করা হয়নি কেন। পাশাপাশি ইডি জানায় যে, তারা কোনও রাজনৈতিক ডেটা বাজেয়াপ্তই করেনি। বরং অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় উপস্থিত হয়ে নথি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করে ইডি।
ইডির আইনজীবী আরও দাবি করেন যে, তৃণমূলের দাখিল করা হলফনামায় যিনি সই করেছিলেন, তল্লাশি চলাকালীন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আর সেই কারণে মামলাটি অনুমানের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে তৃণমূলের তরফ থেকে আদালতে বলা হয়, ইডি যদি দাবি করে যে কোনও তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, তবে সেই বক্তব্য আদালতে নথিভুক্ত করা হোক। কারণ রাজনৈতিক তথ্য সুরক্ষিত রাখা দলের অধিকার।
শুনানির শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। সেই সঙ্গে ইডির আলাদা আবেদন পরবর্তী শুনানির জন্য মুলতুবিও রাখা হয়েছে।
আজ আদালতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) স্পষ্ট জানায় যে , আই-প্যাকের অফিস অথবা সংস্থার ডিরেক্টরের বাড়ি কোনও জায়গা থেকেই তারা কোনও নথি, হার্ডডিস্ক বা ডিজিটাল তথ্য বাজেয়াপ্ত করেনি। ইডির এই বক্তব্য নথিভুক্ত করার আবেদন জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, যদি ইডি সত্যিই কিছু বাজেয়াপ্ত না করে থাকে, তাহলে সেই বক্তব্য আদালতের নথিতে উল্লেখ থাকলেই তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
তৃণমূল জানায় যে, তারা মামলা প্রত্যাহার করছে না। শুধুমাত্র এটুকুই চেয়েছিল যে, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী তথ্য যদি কোথাও গিয়ে থাকে, তাহলে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। তবে ইডির তরফে পাল্টা দাবি করা হয় যে, অভিযানের সময় কোনও কিছুই তারা নেয়নি। বরং সমস্ত নথি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়ে গিয়েছেন বলেও আদালতে জানায় সংস্থা।
এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট জানায় যে, তৃণমূলের আবেদনে আর কোনও বিষয় বিচারাধীন নেই। ফলে সেই আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তবে ইডির করা পৃথক মামলার শুনানি পরে হবে বলেও জানানো হয়েছে। আদালত উল্লেখ করে যে, এই সংক্রান্ত কিছু বিষয় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
এর মধ্য দিয়েই আই-প্যাক অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের করা মামলা আপাতত শেষ হয়েছে হাইকোর্টে।
-
মমতা সাধারণ মানুষকে দিচ্ছেন, নিয়ে নিচ্ছেন মোদী! দাবি অভিষেকের -
এবার একটা বড় খেলা হবে, নানুরে মন্তব্য মমতার -
মমতা বনাম শুভেন্দু লড়াইয়ে যোগ শাহের, ভবানীপুরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর -
অবৈধ ভোটারদের নাম ঢোকাচ্ছে বিজেপি, অভিযোগ মমতার, চিঠি দিলেন জ্ঞানেশ কুমারকেও -
মমতা আইনের ঊর্ধ্বে নন, কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে মন্তব্য শুভেন্দুর, তুললেন গুরুতর অভিযোগ -
কলকাতায় একটাই ট্রাইবুনাল দপ্তর, তবুও ভোগান্তি নেই ভোটারদের, অনলাইনেই মিলবে সমাধান -
'রাজ্যে কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে'! মোদী ও শাহকে কড়া আক্রমণ মমতার, কী বললেন? -
নজরে পুরসভাগুলি, ভবিষ্যৎ মনে করিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া নির্দেশিকা কাউন্সিলরদের জন্য -
মমতার প্রচার বন্ধে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি, পাল্টা তৃণমূলের কটাক্ষ: ভয়েই মরিয়া পদক্ষেপ -
প্রথম চার্জশিট হওয়া উচিত মোদী-শাহের বিরুদ্ধে, মন্তব্য মমতার -
তালিকা কোথায়? কমিশনকে নিশানা করে বেলদা ও নারায়ণগড়ে মমতার আক্রমণ -
বাংলায় বিজেপি নাকি তৃণমূল, কারা গড়বে সরকার? কী বলছে সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা










Click it and Unblock the Notifications