তিনমাস পর খুলল সরকারি অফিস-ব্যাঙ্ক, পুজোর আগে কি ফের হাসবে পাহাড়
দীর্ঘ তিনমাস পাহাড়ে বনধ চলছে। পাহাড়বাসীর জীবন অতীষ্ট হয়ে উঠেছে এই বনধের জেরে। মোর্চার রাশ আলগা হতেই প্রশাসন পাহাড় স্বাভাবিক করতে তৎপর।
পুজোর আগে স্বস্তির ছবি পাহাড়ে। দীর্ঘ তিনমাস পর খুলতে শুরু করল অফিস-আদালত। আগেই খুলেছে দোকান-বাজার। চলেছে যানবাহন। ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছে পাহাড়। মোর্চার হুমকি উপেক্ষা করে ফের পাহাড়ের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। বের হচ্ছেন অফিস-আদালত, দোকান-বাজারে।

শনিবার কার্শিয়াংয়ে খোলা হয় ব্যাঙ্ক। এছাড়া পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গাতেই এদিন খোলে সরকারি অফিসও। পাহাড় স্বাভাবিক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাহাড়ের এই ছবি পর্যটকদের খুশির বার্তা দেবে পুজোর আগে। এমনটাই মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
দীর্ঘ তিনমাস পাহাড়ে বনধ চলছে। পাহাড়বাসীর জীবন অতীষ্ট হয়ে উঠেছে এই বনধের জেরে। পাহাড়ের অর্থনীতির কোমর তো ভেঙে পড়েছেই, পাহাড়ের মানুষের খাবার, পানীয় সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে মোর্চার পাহাড়-আন্দোলনের জেরে পাহাড় থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে পর্যটকরা।
এখন আর উপায় নেই। পাহাড়ের মানুষই বনধ উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। মোর্চাতেই তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একপক্ষ চাইছে বনধ চালিয়ে যেতে, অপরপক্ষ প্রকাশ্যে বনধের বিরোধিতা করছে। মোর্চা সবদিক থেকে কোণঠাসা হয়ে যাওয়ার পরই প্রশাসনের তরফে মাইকিং শুরু করা হয়।
প্রশাসন বার্তা দেয়- পাহাড়ের প্রতিটি কোণে কোণে পুলিশ টহল তো রয়েছেই, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সঙ্কট তৈরি হবে না। তাই অফিস-আদালত, দোকান-বাজার খোলা হোক। সেইমতো পুলিশি নজরদারিতেই অফিস, ব্যাঙ্ক, দোকান, বাজার খোলা হয় পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায়।
নবান্নে সর্বদল বৈঠক হওয়ার আগে থেকেই গুরুং কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তারপর পাহাড় বৈঠকে বিনয় তামাং প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি পাহাড়ে ফিরে বনধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এতেই মোর্চায় ফাটল তৈরি হয়। তারাই জেরে মোর্চার রাশ আলগা হতে শুরু করে। এবং সেই সুযোগ নিয়েই প্রশাসন ১২ সেপ্টেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাহাড় সফরের আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সক্রিয় হয়।












Click it and Unblock the Notifications