'মমতা মুক্ত বাংলার পথ তৈরি করছে ইডি', পার্থকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য দিলীপের
পার্থকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য দিলীপের
৫০ কোটি টাকা, বিপুল সোনার গয়না, সঙ্গে একাধিক ফ্ল্যাট-বাড়ি, গাড়ি। এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তি দেখে চাপে শাসক দলও। শেষ পর্যন্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছেন মমতা। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি শরীর বাঁচাতে হাত কাটা জরুরি ছিল। অর্থাৎ নিজেকে বাঁচাতেই পার্থকে বহিষ্কার করেছেন মমতা। এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডে আরও একটি দিক তৈরি হয়েছে। দিলীপ ঘোষের দাবি ইডির এই তদন্ত মমতা মুক্ত বাংলা গড়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে।

শরীর বাঁচাতে হাত কাটা
পার্থ চট্টোপাধ্যায় টিএমসির জন্মলগ্ন থেকে রয়েছেন। মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদান যেমন বড় ধাক্কা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তেমনই পার্থর বিরুদ্ধে এই তদন্তও বড় ধাক্কা। মুকুল-পার্থ চট্টোপাধ্যায় এঁদেরকে মমতার হাত বলা হত। পার্থ চট্টোপাধ্যায় কোনও কিছু বলছেন মানে মনে করা হত পার্টি কিছু বলছে। সেই পার্থকে মন্ত্রিত্ব থেকে আর দল থেকে অপসারণ করা সহজ কথা ছিল না সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাই তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়েও নিজের হাতে রেখেছেন দফতরের দায়িত্ব। অন্য কারোর হাতে দেননি। বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দাবি করেছেন, মমতা নিজেকে বাঁচাতে পার্থকে অপসারণ করেছেন। তাঁর দাবি শরীর বাঁচাতে হাত কাটা জরুরি ছিল। সেকারণেই পার্থকে অপসারণ করেছেন মমতা।

কে করছে ষড়যন্ত্র
শুক্রবার জোকা ইএসআই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে নিয়ে আসা হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। কিন্তু কে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে সেকথা তিনি বলেননি। তারপরেই বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন কে ষড়যন্ত্র করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর নাম বলুন পার্থ বাবু। পার্থ বাবুর এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্য পূর্ণ বলে দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির পক্ষ থেকে বারবারই দাবি করা হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দুর্নীতির মূলে নেই। এই বিপুল সম্পত্তির মালিক অন্যকেউ। তার নাম বলছেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

মমতা মুক্ত বাংলা গড়ার
একুশের ভোটে শোচনীয় পরাজয় দেখতে হয়েছে বিজেপিকে। নিজের দলের নেতাদের বিদ্রোহের মুখে পড়েছিল বিজেপি। একুশের ভোটে মমতার বিপুল জয় বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন মাটি করে দিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের। তারপরেই আবার পুরসভা ভোটে এক প্রকার ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই হঠাৎ করে রাজ্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। একের পর এক শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এসএসসি কাণ্ডে জেরা শুরু হয় পরেশ অধিকারী হয়ে সোজা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে টার্গেট করে এগোতে শুরু করেছিল বিজেপি। তারপরেই ইডির হাতে গ্রেফতার এক কথায় মমতার ডান হাত পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তদন্ত যত গভীর হচ্ছে তত শাসক দলের অস্বস্তি বাড়ছে। দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন মমতা মুক্ত বাংলা গড়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে ইডি।

মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি হতে পারে
কয়েকদিন আগে মিঠুন চক্রবর্তী দাবি করেছিলেন কে বলতে পারে বাংলার অবস্থা মহারাষ্ট্রের মত হবে না। টিএমসির ৪৮ জন বিধায়ক নাকি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। বিজেপির পর পর দুই নেতার একই ধাঁচের মন্তব্যে জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। তাহলে সত্যি কি অন্য পথে মমতা সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। লোকসভা ভোটের আগে বাংলা দখল করতে চাইছে তারা। কিন্তু মহারাষ্ট্র আর বঙ্গের সমীকরণে ফারাক রয়েছে। বঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়েছে টিএমসি। কোনও শরিকের প্রয়োজন হয়নি। কাজেই কোন সমীকরণে ছক কষছে মোদী-শাহরা সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications