“হিন্দুরা ৫০ শতাংশে নামলে আর সংবিধান চলবে না”, ফের হিন্দুত্ব নিয়ে মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর
তারাপীঠের প্রধান রাস্তার দুই ধার এবং পাণ্ডা পাড়ার নোংরা জল সংরক্ষণের জন্য তারাপীঠ শ্মশানে একটি রিজার্ভার নির্মাণের কাজ চলছে। পরে এই জল পরিস্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলা হবে, এমনটাই পরিকল্পনা করেছে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ। পর্ষদের দাবি, পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই কাজ করা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছে বিজেপি।
বিজেপির অভিযোগ, শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। উন্নয়নমূলক প্রকল্প হলেও ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপেক্ষা করা হয়েছে। শ্মশান এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য এতে বিঘ্নিত হতে পারে। আর এই সব কারণের জন্যেই গতকাল তমলুকের পর আজ রামপুরহাটে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করল রাজ্য বিজেপি। এদিনও এই বিক্ষোভ কর্মসূচীর নেতৃত্বে ছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী।

এদিনও বিরোধী দলনেতার মূল বক্তব্য ছিল হিন্দুত্ববাদকে নিয়েই। এদিন তারাপীঠ মহাশ্মশানের বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। সাফ ভাষায় বলেন, "হাতের বাইরে চলে গেছে বীরভূম, লাইনে আনতে হবে এবার। বৈষ্ণব সমাজকে নিয়ে তারাপীঠ মহাশ্মশান অভিযান করব"।
একই সাথে বলেন, "যদি ভেবে থাকেন আমাদের হাতে গুন্ডা রয়েছে, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমাদের সাথে লক্ষ লক্ষ হিন্দুরা রয়েছে। এই লড়াই টিকে থাকার লড়াই"। শুভেন্দুর কথায়, "বাংলাদেশ দেখে হিন্দুরা আর ঘুমিয়ে নেই, রাস্তায় নেমে এসেছে। তারাও প্রতিবাদ শুরু করেছে। হিন্দুরা আজ ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ৫০ শতাংশে নামলে আর সংবিধান চলবে না। তার জায়গায় কী চলবে আপনারা জানেন"।
এরপরই কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, "সাবধান হয়ে যান এখনই। মহাকুম্ভের ৬৬ কোটি হিন্দুর মধ্যে ৩ কোটি এরাজ্যেরই ছিল। তাই সাবধানে পা ফেলুন"।
একই সাথে রামপুরহাটে দাঁড়িয়ে অনুব্রত ও শেখ শাহজাহানকে এদিন স্মরণ করেন বিরোধী দলনেতা। বলেন, "অনুব্রত মণ্ডল জেলে গিয়েছিলেন, অনেক দিন বাইরে আছেন, আবার যাবেন। শাহাজাহানের নামও শুনেছেন। সবে তিনটি গাড়ি নিলাম হয়েছে। বাড়িও নিলাম হবে। ভারতবর্ষের আইন খুব কঠিন, অত সহজে কেউ ছাড়া পাবেনা। একদিন আপনারও অ্যাকাউন্ট দেখবেন ফাঁকা হয়ে গেছে"।
রামপুরহাটের আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচীর পর মঞ্চ থেকেই পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, "১০ হাজার মানুষ সাঁইথিয়ায় একসাথে হাঁটব, নিয়ে যাব নানুরে"। মূলত, হিন্দুদের জন্যেই এই মিছিল হবে বলে জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।












Click it and Unblock the Notifications