শিল্প হবে, কিন্তু কৃষিকে বিসর্জন দিয়ে নয়, সিঙ্গুর থেকে বার্তা মমতার
সিঙ্গুরে অনেক মানুষ কর্মসংস্থান পাবেন। কৃষি এবং শিল্প একসঙ্গেই চলবে। শিল্প হবে, কিন্তু কৃষিকে বিসর্জন দিয়ে নয়। বুধবার সিঙ্গুরে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, সিঙ্গুরে যাঁরা জমি হারিয়েছেন, আজও তাঁরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পান। তাঁরা খাদ্যসাথী এবং স্বাস্থ্যসাথীর সম্পূর্ণ সুবিধা পান। ট্রমা কেয়ার সেন্টার থেকে শুরু করে কৃষি বাজার ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সবই সেখানে রয়েছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে আট একর জমির ওপর আমরা 'সিঙ্গুর এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক' তৈরি করেছি। ৯.২০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, SAIP-এর অধীনে আমরা আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সিঙ্গুরে ৭৭ একর জমির ওপর একটি বেসরকারি শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করবে। ফ্লিপকার্ট এবং অ্যামাজন এখানে তাদের গোডাউন তৈরি করছে। আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের পক্ষ থেকে প্রোজেক্টটি অনুমোদন করে দিয়েছি।
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, আপনারা আমার কিচ্ছু করতে পারবেন না। আমাকে জেলে পাঠাতে পারেন, গুলি করতে পারেন। আমি সব কিছুর জন্য প্রস্তুত। আমি যদি জেলে যাই, বাংলার মা-বোনেরাই তার জবাব দেবে। তখন ঘরে ঘরে মিষ্টি তৈরি হবে। আজ আমার দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ওই দুর্ঘটনার কারণে আমাকে পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে।
আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার সময় আমাদের কয়েকজন বন্ধু মারা গিয়েছেন। আমি মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। ডেকরেটর এবং ওয়াও মোমোও ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। আমি পুলিশকে বলেছি, পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দিতে এবং সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করতে।
মমতা বলেন, আজ না হলেও খুব শীঘ্রই আমি দিল্লি যাব। আপনারা যখন মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছেন, তখন আমার পক্ষে চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে আমি আদালতেও যাব। অনুমতি পেলে আমি আদালতে দাঁড়াবও-আইনজীবী হিসেবে নয়, অন্য সাধারণ মানুষের হয়ে লড়াই করা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে। আমার কাছে প্রতিটি নথি এবং প্রমাণ আছে। জীবিত মানুষকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাবা-মাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ভয়ে বাবা-মা দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন। এখন সেই মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষটির দেখাশোনা কে করবে? ৯৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে তলব করা হয়েছে। মন্ত্রী শশী পাঁজা, নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন এবং কবি জয় গোস্বামীকেও তলব করা হয়েছে।
মমতা আরও বলেন, ভারতের স্বাধীনতার জন্য বাঙালি রক্ত দিয়েছে। এটা নবজাগরণের মাটি। আর আজ সেই বাংলার মানুষকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে! এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। বিজেপি মিথ্যে কথা বলে মানুষকে লুটছে। আমরা আপনাদের ক্ষমা করব না। এতগুলো মানুষের মৃত্যুর পেছনে কারা, তার জবাব আপনাদের দিতেই হবে। শুধু আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে মমতা বলেন, আপনারা আমাদের সব উন্নয়নের টাকা আটকে দিয়েছেন। সিঙ্গুরে এসে টেলিপ্রম্পটার দেখে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আউড়ে গেলেন। আমি কিন্তু কাগজ পড়ে বা দেখে ভাষণ দিই না। ওরা বাংলার প্রতি প্রেম দেখাতে হিন্দি হরফে বাংলা লিখে নিয়ে আসে। চার বছর ধরে আবাস যোজনা, রাস্তা, ১০০ দিনের কাজ, জল এবং শিক্ষার টাকা বন্ধ করে রেখেছে। কোষাগার লুট করে দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে কৃষকদের সুবিধার্থে আজ ২৪,১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। যখনই ঘাটাল এলাকায় বন্যা হয়েছে, আমি ছুটে গিয়েছি। ডিভিসি-এর ছাড়া জলে খানাকুল, আরামবাগ, ঘাটাল এবং হাওড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতো। আমি ১০ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে চিঠি লিখেছি, কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি। এখন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর জন্য ১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে যে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার কাজ শেষ। বাকি কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে। এর ফলে কেশপুর, ডেবরা, ঘাটাল এবং দাসপুরের মতো এলাকাগুলো উপকৃত হবে। নিম্ন দামোদর অঞ্চলের প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে হাওড়া, হুগলি, বীরভূম এবং বর্ধমানের মানুষও সুবিধা পাবেন।












Click it and Unblock the Notifications