সামাজিক উন্নয়ন করে দিয়েছি, এবার DESTINATION শিল্প! লক্ষকোটির বিনিয়োগে হাজারো চাকরির প্রতিশ্রুতি মমতার
রাজ্যে সামাজিক উন্নয়নের কাজ হয়ে গিয়েছে, এবার তাঁর লক্ষ্য শিল্পায়ন (industrialisation)। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) পানাগড়ের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বলেন তাঁর Destination শিল্প। এর জন্য প্রতিমা
রাজ্যে সামাজিক উন্নয়নের কাজ হয়ে গিয়েছে, এবার তাঁর লক্ষ্য শিল্পায়ন (industrialisation)। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) পানাগড়ের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বলেন তাঁর Destination শিল্প। এর জন্য প্রতিমাসে একটা করে বৈঠক করবেন তিনি। রাজ্যে শিল্পায়নের লক্ষ্যে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তিনি তাঁর চেয়ারম্যান বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যে সামাজিক উন্নয়নের কাজ অনেক হয়েছে
মুখ্যমন্ত্রী এদিন দুয়ারের সরকারের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ক্যাম্পগুলিতে ২ কোটির বেশি মানুষ এসেছেন। এঁদের বেশিরভাগই মহিলা। এপ্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ফের পুরো সময় কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে। তিনি বলেছেন রাজ্যে সামাজিক উন্নয়নের বেশিরভাগ
কাজই তিনি করে দিয়েছেন।

Destination শিল্প
পানাগড় শিল্পতালুকের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এবার তাঁরা লক্ষ্য রাজ্যে শিল্পস্থাপনে জোর দেওয়া। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, একটা সময়ে দেশে শিল্পে একনম্বর থাকা বাংলা ফের শিল্পে একনম্বর স্থান দখল করবে। রাজ্যে শিল্পস্থাপনের জন্য একজানালা পদ্ধতি চালু হয়েছে। শিল্পস্থাপন ত্বরান্বিত করতে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার চেয়ারম্যান তিনিই। এছাড়াও কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন, মুখ্যসচিব-সহ অন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সচিব। প্রতিমাসে এই কমিটির একটি করে বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দেউচা পাচামি
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের একবার রাজ্যের শিল্পায়নের দেউচা-পাচামি কয়লাখনির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে যে জমি লাগবে, তা রাজ্য সরকারের হাতে ছিল, কাজের জন্য তা তুলে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের কথাও জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের জন্য চাকরি-শিক্ষা-ঘর-স্কুল-কলেজ তৈরি করে দেওয়া হবে। ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে সেখানে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের কথাও ফের একবার বলেছেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন, এখানে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে রাজ্যে যেমন আগামী ১০০ বছরে বিদ্যুতের অভাব হবে না, ঠিক তেমনই বিদ্যুতের দামও কমবে।

তাজপুর পোর্ট, জঙ্গলমহল সুন্দরী
মুখ্যমন্ত্রী এদিন রাজ্যের শিল্পায়নে তাজপুর পোর্টের কথাও বলেছেন। নাম না করে তিনি গুজরাতের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, এক-একটি রাজ্যে ৪-৫ টা বন্দর। তারা তো শিল্পে উন্নত হবেই। তাজপুর পোর্ট গড়ে উঠলে সেখানেও প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে। রঘুনাথপুর শিল্পতালুকে ৭২ হাজার কোটির বিনিয়োগে প্রায় লক্ষাধিক কর্মসংস্থান হবে। তিনি এই শিল্পতালুকের নাম রেখেছেন জঙ্গলমহলসুন্দরী। তিনি বলেছেন, পানাগড় শিল্পতালুকে ২৫ হাজার এবং জামালপুরে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

ইথানল থেকে ৪৮ হাজার কর্মসংস্থান
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে প্রতিদিন জ্বালানির দাম বাড়ছে, সেখানে রাজ্যে অন্যতম বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ইথানল। যা সেরা দেশকেই পথ দেখাতে পারে। ভাঙা চাল থেকে ইথানল তৈরিতে আগামী একবছরে ১৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও পানাগড়ে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর টার্গেট এখন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো।

রাজ্যে বাড়ছে কর্মসংস্থান
রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে ডেটা সেন্টার ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ২৪ হাজার কর্মসংস্থান হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে দেশে দারিদ্রতা বেড়েছে, লোক ছাঁটাই হয়েছে, সেখানে রাজ্যে দারিদ্রতা কমেছে প্রায় ৪০% এবং চাকরি বেড়েছে প্রায় ৪০%।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, রাজ্যে যে পরিমাণ ডিম লাগে তার অনেকটাই বাইরের রাজ্য থেকে আনতে হয়, এছাড়াও রাজ্যে মুরগির মাংসেরও চাহিদা রয়েছে। তাই মুরগি ও হাঁসের পোল্ট্রি তৈরির ওপরে জোর দিয়ে তিনি বলেন এটাও একটা শিল্প। রাজ্যে দুবছর বন্ধ থাকা বিশ্ববঙ্গ সম্মেলন ফের করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সচিবদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চে সেই অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। এছাড়াও শিল্প সম্মেলনে তিনি যদি কোনও আহ্বান পান, তাহলে আগের মতোই রাজ্যের শিল্পপতিদের সঙ্গে নেবেন বলেও জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য আবারও শিল্পে একনম্বর হবে।












Click it and Unblock the Notifications