নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ, ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
নন্দীগ্রাম মামলাতে নয়া মোড়। মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। আজ বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি চন্দের এজলাসে। সেখানে মামলার সঠিক বিচার হওয়া নিয়ে কার্যত প্রশ্ন তোলা হয়। আর এরপরে বিচারপতি এই হেভ
নন্দীগ্রাম মামলাতে নয়া মোড়। মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। আজ বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি চন্দের এজলাসে। সেখানে মামলার সঠিক বিচার হওয়া নিয়ে কার্যত প্রশ্ন তোলা হয়। আর এরপরে বিচারপতি এই হেভিওয়েট মামলা ছেড়ে দেন।

একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা কুলষিত করার জন্যে পাঁচ লক্ষ টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জরিমানা করেন বিচারপতি চন্দের বেঞ্চ। বিচারপতি চন্দ এই মামলা ছেড়ে দেওয়াতে নিয়ম অনুযায়ী এই মামলা চলে যাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে।
তিনি নতুন করে এই মামলা কোনও বিচারপতির এজলাসে তা ঠিক করে দেবে। এরপর ফের নতুন করে এই মামলার শুনানি হবে।
আজ বুধবার বিচারপতি চন্দের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়ালে অংশ নেন আইনজীবী সিংভি। মামলার শুরুতে সিংভি বলেন, আইনজীবী থাকাকালীন বিজেপির হয়ে একাধিক মামলা লড়েছেন।
সেখানে এই হেভিওয়েট মামলার শুনানি নিরপেক্ষভাবে হবে কিনা সে বিষয়ে কার্যত সন্দেহ প্রকাশ করেন আইনজীবী। এরপরেই বিচারপতি চন্দের পর্যবেক্ষন, একজন আইনজীবী কোনও না কোনও সময় কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে মামলা লড়ে!
এমনকি কোনও ব্যক্তির হয়েও মামলা লড়তে পারেন। কিন্তু একজন বিচারপতির আসনে বসার পর তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হবেন তা ঠিক নয়। শুধু তাই নয়, মামলা কোনও পার্টির পক্ষে রায় চলে যাবে এটা ভাবাও ঠিক নয়। বিচারপতি হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকে একজন স্বতন্ত্র মানুষ। দেশের গণতন্ত্র অনুযায়ী ভোট দানের ক্ষমতা দেওয়া হয়ে থাকে।
ফলে কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন বলেই ভোট দান কেন্দ্রে যান। চলে মনু সিংভির সমস্ত দাবি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি চন্দ। এছাড়াও এদিন বিচারপতি চন্দ মামলাকারীর একাধিক যুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন।
এরপরেই কার্যত মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি। তবে এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেও বিচার ব্যবস্থাকে এভাবে কুলষিত করার জন্যে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে ভোট গণনাতে কারচুপতি করা হয়েছে। এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মামলা ওঠে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। আর এখানেই বিতর্ক। তৃণমূলের দাবি, বিচারপতি চন্দ একটা সময়ে বিজেপির হয়ে মামলা লড়তেন।
এমনকি দিলীপ ঘষের সঙেও ছবি আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে এই মামলার শুনানি নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
খোদ প্রধান বিচারপতিকে এই বিষয়ে চিঠি লেখেন তিনি। দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর অবশেষে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নন্দীগ্রামের মতো হেভিওয়েট মামলা ছাড়লেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ।












Click it and Unblock the Notifications