প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ মামলা, মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে আইনি লড়াইয়ে দিল্লি হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
সংসদে প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ মামলাকে ঘিরে নতুন মোড় নিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যে চার্জশিট পেশ করতে চলেছিল, সেই প্রক্রিয়ার উপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়ে অভিযোগকারী বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিস গিয়েছে মহুয়া মৈত্র ও সিবিআই এর কাছেও।
এই মামলার সূত্রপাত গত বছর। প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ অভিযোগে তদন্তের পর সিবিআই কে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল লোকপাল। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেন মহুয়া। তবে প্রথমে স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। পরে আদালত জানায়, চার্জশিট পেশের বিষয়টি লোকপালের বিবেচনার উপর নির্ভর করবে ও নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে লোকপালের আবেদনে সময়সীমা বাড়ানো হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিবিআই চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। ফলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লি হাই কোর্ট আর সময়সীমা বাড়াতে অস্বীকার করে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় লোকপাল।
শুক্রবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ লোকপাল আইনের ২০ নম্বর ধারার অধীনে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। আদালত জানায়, বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বতন লোকসভার সদস্য থাকার সময় দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সংসদে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন মহুয়া মৈত্র। সেই প্রশ্নগুলির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। অভিযোগ, এই প্রশ্নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কে রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলাই উদ্দেশ্য ছিল।
এই অভিযোগ সামনে এনে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়েছিলেন নিশিকান্ত দুবে। একই সঙ্গে মহুয়ার প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ জয় অনন্ত দেহাদ্রাইও প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন। পরে সংসদের নৈতিকতা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর মহুয়ার লোকসভার সদস্যপদ খারিজ করা হয়। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জিতে আবারও সাংসদ হন তিনি।
তদন্তে সিবিআই দাবি করেছে, অর্থের বিনিময়ে মোট ৬১টি প্রশ্ন সংসদে তুলেছিলেন মহুয়া। তার মধ্যে তিনটি সরাসরি অফলাইনে করা হলেও অধিকাংশ প্রশ্নই অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল। হীরানন্দানি নিজেই হলফনামায় জানিয়েছেন, মহুয়ার সংসদীয় লগইন আইডি ব্যবহার করে তিনিই প্রশ্নগুলি পোস্ট করতেন।
এখন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে মামলার আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী দিনে আদালতের নির্দেশের উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী গতিপথ।












Click it and Unblock the Notifications