21 July Shahid Diwas: সিপিএম নিয়ে সুর নরম! বুদ্ধদেব আর ইয়েচুরির ফারাক বুঝিয়ে দিলেন মমতা
তেইশের পঞ্চায়েত ভোট শেষ, সামনে এবার ২০২৪-এর মহাসংগ্রাম-- লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে বামফ্রন্ট তথা সিপিএম ও কংগ্রেসকে নিয়ে 'ইন্ডিয়া' গড়ে তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেঙ্গালুরুতে জোট বৈঠকের তিনদিনের মাথায় বাংলায় একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে সিপিএম নিয়ে সুর নরম করে ফেললেন তিনি।
একুশে জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানের পুরোপুরি সিপিএমের বিরুদ্ধে। সেখানে সিপিএম নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক অদ্ভুস অবস্থান নিলেন। একেবারে বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান যেমন, সিপিএমের বিরুদ্ধেও সেই একই অবস্থান নিলেন তিনি। খুব সুক্ষ্মভাবে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ইয়েচুরির সিপিএম ভালো, বুদ্ধবাবুর সিপিএম খারাপ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রায়শই অভিযোগ ওঠে, তিনি বিজেপিকে হাতে ধরে বাংলায় এনেছিলেন। বিজেপির সঙ্গে তাদের গোপনি আঁতাতের কথা তুলে বারবার আক্রমণ হেনেছে সিপিএম। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পাল্টা বলেছেন, অটল-আদবানির বিজেপি ভালে, মোদী-শাহের বিজেপি খারাপ।
ঠিক তেমনই একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন এখনকার সিপিএম ভালো, কিন্তু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যে সিপিএম ভালে ছিল না। সেই সিপিএমের নোংরা কদর্য চেহারা বারবার সামনে এসেছে। বাংলার মাটিতে অত্যাচারের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করে নেতাই, সাঁইবাড়ি, মরিচঝাঁপি, বিজনু সেতু, বানতলা, কান্দুয়ার ঘটনা সর্বজনবিদিত।
কিন্তু সীতারাম ইয়েচুরির সিপিএম ভালো। সিপিএম এখন বাংলায় শূন্যে নেমেছে। এই নখদন্তহীন সিপিএম যদিও আবার জেগে ওঠার চেষ্টা করছে বাংলায়। এই সিপিএমকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে য়ে সিপিএম নেতৃত্বাধীন সরকারের পুলিশ ধর্মতলার মাটি লাল করে দিয়েছিল, সেই সিপিএম এখন বদলে গিয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মে ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের উদাহারণও টেনে ধরেন ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে। তিনি বলেন, ২০০৩ সালের বুদ্ধবাবুর সিপিএমের আমলে পঞ্চায়েত ভোটে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ খুন হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েতে শুধু নির্বাচনের দিনই খুন হয়েছিলেন ৩৯ জন।
বুদ্ধদেববাবুর সিপিএমে প্রথম থেকেই অ্যালার্জি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু এখনকার সিপিএমকে দোষ দিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের পঞ্চায়েত ৭১ হাজার বুথে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে তিন জায়গায় গন্ডগোল হয়েছে বলে অভিমত মমতার। তাঁর মতে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ও পরে মাত্র ২৯ জন মারা গিয়েছে।

তিনি বলেন, আবার এই ২৯ জনের মধ্যে ১৮ জনই তৃণমূলের। তৃণমূল নিশ্চয়ই তৃণমূলকে খুন করবে না। আর সিপিএম ও বিজেপির তিন জন করে খুন হয়েছে। বাকি অন্যান্য। আমরা প্রত্যেক পরিবরাকে ২ লক্ষ টাকা ও হোমগার্ডের চাকরি দিয়েছি। আমরা সকলকে সাহায্য করেছি।
সিপিএম নিয়ে মমতার নয়া অবস্থানে জোর চর্চা শুরু হয়েছে-তবে কি সিপিএমের সঙ্গে শত্রুতা শেষ? বিজেপি বিরোধী জোটের স্বার্থে মমতা সুর নরম করলেও, শত্রুতা যে শে নয়, তা সকালেই দলের মুখপত্র 'জাগো বাংলা'য় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বিরোধী জোটের পক্ষে সমর্থন চাইলেও ৩০ বছর আগের ঘটনায় ক্ষোভের আগুন যে নেভেনি বলেই জানিয়ে দিয়েছেন।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই ধর্মতলায় পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন মমতা বন্যোায়পাধ্যায়-সহ অনেকে। মহাকরণ ঘেরাও অভিযান সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পুলিশরে সৌজন্যে। 'জাগো বাংলা'য় প্রকাশিত মমতা বন্দ্যোপাপাধ্যায় কলামে উঠে এসেছে সেদিনের হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের কলামে সিপিএমের সঙ্গে সমীকরণটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনা করেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে সেই সিপিএমকে নিয়ে 'ইন্ডিয়া' তৈরির প্রয়োজনীয়তাও।












Click it and Unblock the Notifications