২০২৬ ভোটকে সামনে রেখে সিএএ প্রচারে জোর, কলকাতায় রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তথা সিএএ নিয়ে সচেতনতা অভিযানকে কেন্দ্র করে আজ কলকাতায় বসছে রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। শুক্রবারের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। এদিনের বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় নির্বাচনী কৌশল ও রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া সিএএ বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে প্রায় ৭০০টি সচেতনতা শিবির স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। বুধবার কলকাতায় যে মস্তিষ্কঝড় বৈঠক হয়েছিল, তাতে উপস্থিত ছিলেন বি এল সন্তোষ ও সুনীল বনসল। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়েছে, রাজ্যে সিএএ প্রচার আরও জোরদার করা হবে।

এই শিবিরগুলির মূল লক্ষ্য মানুষকে সিএএ-র নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা ও আইনটি নিয়ে যে বিভ্রান্তি বা ভুল ধারণা রয়েছে তা দূর করা। বিশেষত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন তথা এস আই আর এর সঙ্গে সিএএ র সম্পর্ক নিয়ে বহু মানুষের মনে প্রশ্ন আছে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে সেই সমস্ত প্রশ্নের নিরসন করা হবে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের জানাতে হবে যে তাঁদের দেশছাড়া করা হবে না। এক বর্ষীয়ান নেতা বলেছেন, "এই বার্তা প্রত্যেকের কাছে পৌঁছানো জরুরি। গত এক দশকে যেসব হিন্দু উদ্বাস্তু বাংলায় আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তাই দেবে এই শিবিরগুলি।"
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, "ভারত সবসময় নিপীড়িত হিন্দুদের আশ্রয়ের জায়গা। মানবিকতার জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এই শিবিরগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
সূত্রের খবর, আজকের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে রাজ্য ও জেলা স্তরের পদাধিকারীদের জন্য একাধিক নির্দেশ জারি করা হবে,সিএএ সচেতনতা শিবিরের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।প্রতিটি জেলার নেতা ও বিধায়কদের ওপর দায়িত্ব থাকবে কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের।
প্রচারে বাধা বা প্রতিবাদের মুখোমুখি হলে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে। যে কোনও সমস্যা জানাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দুটি হেল্পলাইন নম্বর দিয়েছে। প্রতি মাসে অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত রিপোর্ট দিল্লি পাঠাতে হবে।
রাজ্য বিজেপির একাংশের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সিএএ প্রচারে নতুন করে জোর দেওয়া হচ্ছে ভোটের আগে দলীয় ঘাঁটি মজবুত করতে। উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো ও সিএএ নিয়ে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতেই এই কর্মসূচি এখন বিজেপির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।












Click it and Unblock the Notifications