বাঁকুড়ায় কি প্রকট হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি? জল ছাড়ল মুকুটমণিপুর জলাধার
গভীর নিম্নচাপের কারণে ভারী বৃষ্টি চলছে পশ্চিমের জেলাগুলিতে। শনিবার থেকে বৃষ্টি চলছে বাঁকুড়ায়। রবিবার সেই বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার পরিমাণ আরও বেড়েছে৷ নদীগুলিতে জলের পরিমাণ শনিবারই অনেক বেড়ে গিয়েছিল৷ রবিবারের সেই বৃষ্টি জল বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে বইছে৷ এদিকে মুকুটমণিপুর জলাধার থেকেও জল ছাড়া হয়েছে সোমবার৷
বাঁকুড়া জেলায় কি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? সেই আশঙ্কা করছেন কিছু এলাকার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাঁকুড়ায় প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত। এই অবস্থায় দক্ষিণ বাঁকুড়ার উপর দিয়ে প্রবাহিত শিলাবতী, কংসাবতী, কুমারী, জয়পণ্ডা সহ অন্যান্য নদীতে জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে।

জল বেড়েছে মুকুটমণিপুর জলাধারেও। সূত্রের খবর, এই জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা যথেষ্ট। এদিন জল ছাড়ার আগে মুহূর্তে ৪৩৩ দশমিক ৮০ ফুট জল ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে সোমবার জল ছাড়া হয়। নদীবক্ষে ১০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হল এদিন। এরপর কি আরও জল ছাড়া হবে? সেই প্রশ্নও থাকছে। বৃষ্টি ও জলাধারে জলের পরিমাণ দেখে দফায় দফায় আরও জল ছাড়া হতে পারে। কংসাবতী সেচ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।
মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল ছাড়ার আগে নদী তীরবর্তি এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হয়৷ প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। শিলাবতী নদীতেও বিপদসীমার উপর দিয়ে জল বইছে৷ পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে। সেই আশঙ্কাও করা হচ্ছে। সোমবার পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালডাংরার শিলাবতী নদী তীরবর্তি এলাকার মাইকিং করা হয়। আশপাশের মানুষদের সতর্ক করা হয়।
গভীর নিম্নচাপ সরে ঝাড়খণ্ডের দিকে যাচ্ছে। ফলে পশ্চিমের জেলাগুলিতে আরও বৃষ্টি চলবে৷ ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টি হলে দুশ্চিন্তা আরও বাড়বে। কারণ, সেই রাজ্যের জল বাংলায় আসার সম্ভাবনা থাকছে। এরপর অন্যান্য জলাধার থেকে জল ছাড়লে আরও বিপদ হতে পারে। সেক্ষেত্রে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনাও থাকতে পারে৷ ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications