জীবন-যুদ্ধে কর্মযোগী গৃহবধূ! সংসার চালাতে শেষপর্যন্ত ধরলেন টোটোর স্টিয়ারিং
পৃথিবীটা হঠাৎ করেই কালো ধোঁয়া হয়ে গিয়েছিল তাঁর জীবনে। ঘরেরে কোণে কোণে অভাব ছেয়ে গিয়েছে। কী করে চলবে সংসার! প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া লড়াই শুরু হয়েছিল গৃহবধূর। নাবালক দুই সন্তানের মুখ হাসি ফোটাতে শেষে তাঁকে পা রাখতে হল বাড়ির চৌহদ্দির বাইরে!
মায়ের কর্তব্য পালনে ভয়কে জয় করার সে কাহিনি বড়োই বেদনার! পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহির ওসিপি কলোনি এলাকার ওই গৃহবধূর নাম মামনি রুইদাস। বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের মা। স্বামীর সঙ্গে বর্তমানে তেমন বনিবনা নেই। দুই সন্তানকে নিয়েই সংসার গৃহবধূর।

বছর ২৯-এর মামনি রুইদাস ভেবে পাচ্ছিলেন না স্বামী-পরিত্যক্তা হয়ে দুই সন্তানকরে নিয়ে কী করে দিন গুজরান করবেন। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কী করে নাবালক দুই সন্তানের মুখে দু-মুঠো অন্ন তুলে দেবেন? মাথার মধ্যে যখমন এমন নানা জল্পনা উথাল-পাথাল করছে, তখনই তিনি স্থির করে নিলেন তাঁর কর্ম পরিকল্পনা।
ঠিক করলেন এবার টোটো চালাবেন তিনি। যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। আর কোনও দিকে না তাকিয়ে টোটোর স্টেয়ারিং ধরলেন মামনি। শুরু হল জীবনের নতুন অধ্যায়। অদম্য ইচ্ছাতেই সংসারে সন্তান প্রতিপালনের নজির গড়লেন তিনি। অন্ন সংস্থান করে ফেললেন নিজের চেষ্টায়।
পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি গ্রামের রুইদাস পাড়ার সুকুমার রুইদাসের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে হয় তাঁর। অভাবের সংসারে ছেলেমেয়েদের মুখে দু'বেলা দুটো ভাত তুলে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রমী হয়ে উঠলেন মামনি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিনলেন টোটো। টোটো চালানোর পাশাপাশি বাড়িতে পরিচারিকার কাজও করেন মামনি।
নারীদের সুরক্ষা নিয়ে যখন দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই সমস্ত বিপদ-ভয়কে জয় করেই টোটোর স্টিয়ারিং ধরেছেন মামনি। দিনে, দুপুরে, সন্ধ্যায় যাত্রীদের গন্তব্যে নিয়ে যেতে কোনওরকম ভয় বা সংশয়কে মনে বাসা বাঁধতে দেননি তিনি। প্রশ্ন করতেই অকপট জবাব গৃহবধূ মামনির।
তিনিই জানালেন, লোন নিয়ে টোটো কিনেছি। তাই লোনের বোঝা রয়েছে। মাথার উপর রয়েছে সংসার, দুই সন্তান। তাই শুধু টোটো চালিয়েই হয় না, সকালে টোটো নিয়ে বেরোনোর আগে দু-চারজনের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে নিজের বাড়ি ফিরে এসে ছেলেদের জন্য রান্না করে তারপর টোটো নিয়ে বের হন তিনি।
তাঁর কথায়, মনে ভয় সংশয় থাকলেও কোনো উপায় নেই। পেটের দায় বড়ো বালাই। তবে মামনি রাতে টোটো চালান না। যদি কোনও কারণে যাত্রী নিয়ে যেতে হয়, তখন তিনি তাঁর ভাইকে ডেকে নেন। এভাবেই চলছে তাঁর জীবন যুদ্ধ। জীবন সংগ্রামে দুই ছেলেকে বড়ো করে তোলাই তাঁর এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications