Holi 2024: রাত পোহালেই রঙের খেলায় মাতবেন দেশবাসী, বর্ধমান কিন্তু খেলবে না হোলি, জানেন কেন?
আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া। কাল আমাদের দোল। অন্ধকার নামলেই হোলিকা দহন বা ন্যাড়াপোড়ায় মাতবে গোটা দেশ। পরের দিন হোলি। বৃন্দাবন-মথুরায় যদিও সাত দিন ধরে প্রায় হোলি খেলা হয়। শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীরাধা এবং গোপীদের হোলি খেলার উৎসবকে সামনে রেখেই সেখানে রঙের উৎসবে মাতেন মানুষ।
দেশ-বিদেশের পর্যটকরা পর্যন্ত হাজির হয়ে যান সেই হোলি খেলা দেখতে। বাংলার মানুষ যদিও হোলি খেলার আগের দিন ন্যাড়া পোড়া করেন। সেই অনুষ্ঠানে জীবনের সব মলিনতা পুড়িয়ে দিয়ে নতুন করে পরের দিন রঙের খেলায় মাতেন তাঁরা। আবির, গুলাল, ফাগ থেকে শুরু করে রং কতো কি যে থরে খরে সাজানো থাকে রঙের উৎসবে। বাঙালের কাছে হোলির একটা আলাদা আনন্দ রয়েছে।

ফাগুনের আবাহনে আবির দিয়ে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দেওয়ার নামই এখানে হোলি। এবার আবার তিনদিন টানা ছুটি পড়েছে হোলির। শুক্রবার থেকেই হোলির মুডে চলে গিয়েছে গোটা দেশ। দোকানে বাজারে রঙের মেলা। পিচকারি মুখোস, পোশাকের ভিড়। হোলি লেখা টি শার্ট থেকে শাড়ি কি নেই।
গোটা দেশ যখন রঙের খেলায় মশগুল হয়ে থাকে। তখন কিন্তু বর্ধমান বাসী রং খেলেন না। তাঁরা রং খেলেন দোলের পরের দিন। কেন এই ব্যতিক্রমী নিয়ম অনেকেই জানতে চাইবেন। এর নেপথ্যে রয়েছে বর্ধমান রাজার কাহিনী। সেই রাজার আমোল থেকেই এই নিয়ম মেনে আসছেন বর্ধমানবাসী।
বর্ধমান বাংলার অংশ হলেও এখানকার রাজা ছিলেন মহতাব চাঁদ। অবাঙালি। তাঁদের উপাস্য দেবতা ছিলেন লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ। দোলের দিন ঠাকুরের পায়ে আবির দিয়ে রাজা নিজের রাজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রঙের খেলায় মাততেন। কিন্ত রাজার হোলি খেলা না হলে প্রজারা হোলি খেলতে পারতেন না। এদিকে রাজার হোলি খেলা শেষ হতে হতে দিন গড়িয়ে যেত কাজেই সেদিন আ হোলি খেলতে পারতেন না রাজারা। তাই পরের দিন প্রজাদের জন্য হোলি খেলার প্রথা চলে আসছে বর্ধমান শহরে।
এখনও রাজ পরিবারের পুরোহিত সেই রীতি মেনেই দোলের দিল শুধু ঠাকুরের পায়ে আবির দেন। কিন্তু কেই দোল খেেলন না। পরের দিন সকাল থেকে রঙের খেলায় মাতেন শহরবাসী। প্রভাত ফেরী থেকে নাচ গান অনুষ্ঠান সবটাই পরের দিন হয় এখানে। সেকারণে গোটা দেশে এবং রাজ্যে আগামীকাল দোল বা হোলি হলেও বর্ধমান শহরে কিন্তু মঙ্গলবার দোল বা হোলি।












Click it and Unblock the Notifications