উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ থেকে মানিক তালুকদার কখন বাড়ি ফিরবেন? টিভির সামনে অপেক্ষায় স্ত্রী ও পরিবার
দমবন্ধ করে অপেক্ষা। একটা করে দিন কেটেছে। কীভাবে ওই সময় গিয়েছে, তা কেবল পরিবারের লোকজনই জানেন। উত্তরকাশীর সূড়ঙ্গে আটকে মানিক তালুকদার। অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন জীবনমৃত্যু দোলাচলে। বাংলায় এখন অপেক্ষা করছেন তার পরিবারের সদস্যরা৷
দীর্ঘ ১৬ দিনের লড়াই। মানিক তালুকদার জীবন - মৃত্যুর সরু সুতোর উপর দাঁড়িয়েছিলেন । সূড়ঙ্গ থেকে আর কি ফেরা হবে? আর কি দেখা হবে বাইরের আলো? আর কি কোনওদিন দেখতে পাওয়া যাবে পরিবার- পরিজনদের মুখ? সেই প্রশ্ন হয়তো তার মনে এসেছে।

মানিক তালুকদারের পরিবারের সদস্যদেরও লড়াই। প্রতি মুহূর্তে তারাও যে এক কঠিন মানসিক লড়াই লড়েছেন। ঘরের লোক কি আর ফিরে আসবেন? দেখা যাবে মানুষটাকে? পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন মানিক? সেই প্রশ্ন পরিবারের লোকজনের মনেও এসেছে প্রতি মুহূর্তে।
হবে নাই বা কেন? বিগত দিনগুলোয় তো মৃত্যুর হাতছানি ছিল প্রতি মুহূর্তে। উদ্ধারকাজ শুরু হওয়া। তারপর বন্ধ হওয়া। ড্রিল মেশিন খারাপ হয়ে যাওয়া। শেষ দিকে এসে মেশিন ভেঙে উদ্ধারকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া। পরতে পরতে বাধা এসেছে উত্তরকাশীর ওই অভিশপ্ত সূড়ঙ্গে। এবার যেন আশার আলো।
ঘরের লোক এবার ঘরে ফিরে আসবেন। আশায় বুক বেঁধেছেন পরিবারের সদস্যরা ও মানিকবাবুর স্ত্রী। বিগত দিনগুলোর মতোই বাড়ির সামনে ভিড়। সাংবাদিকরা ঘোরাফেরা করছেন। প্রশাসনের থেকেও লোকজন যাচ্ছেন ওই বাড়িতে।
কোচবিহারের বলরামপুরের চেককডোরা গেন্দারপাড় এলাকায় মানিক তালুকদারের বাড়ি। স্ত্রী ও সন্তাম আছে তার। তিনি পেশায় ইলেকট্রিকের কাজ করেন। বেশি টাকা উপার্জনের জন্য উত্তরকাশীতে কাজ করার জন্য যান। এরপরই সেই অঘটন। কাজ করার সময় ধস নেমে সূড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।
মানিক তালুকদারের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করছেন স্বামীর মঙ্গল কামনায়। মানিকবাবুর ছেলে জানিয়েছেন, প্রশাসন খোঁজখবর রাখছে। উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা হবে। এরপর বাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে।
এলাকার বিডিও ও অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি এসেছিলেন এদিন। তাঁরাও পরিবারের পাশে আছেন। জেলাশাসকও তাঁদের মাধ্যমে সব তথ্য নিচ্ছেন। টিভির পর্দায় সূড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারকাজের খবর দেখছেন সকলেই।












Click it and Unblock the Notifications