দিনহাটায় সম্মুখ সমরে দুই মন্ত্রী! পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আহত এসডিপিও
উত্তপ্ত কোচবিহারের দিনহাটা। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যাওয়া এসডিপিও-র মাথা ফাটে। পরে সেখানে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তৃণমূলের অভিযোগ, নিশীথ প্রামাণিকের কনভয় থেকে প্রথম হামলা হয়। বিজেপির দাবি, হামলা প্রথমে হয় তৃণমূলের তরফে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকসভা ভোটে কোচবিহারের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক যখন চৌধুরীহাট থেকে প্রচার সেরে দিনহাটা ফিরছিলেন, সেই সময় নিগমনগর এলাকায় দিনহাটা পুরসভার কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে নিজের জন্মদিন পালন করে প্রচুর কর্মী সমর্থক নিয়ে বের হচ্ছিলেন দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ।

এই পরিস্থিতিতে একে অপরের সামনে পড়ে যান। তাঁরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা কোনও রকমে তাঁদের নিরস্ত করেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের অভিযোগ, তাঁর কনভয় আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা।
এরপরেই দুপক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্য ধুন্দুমার বেধে যায়। নিশীথ প্রামাণিক জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান রাজ্যে। সেই কারণে ওই সময় নিশীথ প্রামানিকের নিরাপত্তার কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের বচসা হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহের অভিযোগ, ১৫-১৬টি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানে অনেকের হাতেই ছিল লাঠি ও তির-ধনুক। দিনহাটায় পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ করেছেন তিনি। উদয়ন গুহ জানিয়েছেন, তাঁর জন্মদিনে ব্যবসায়ীরা সম্বর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। তিনি বাইরে বেরোতেই তৃণমূলের দশ থেকে বারোজনকে ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁর গাড়িও ভাঙা হয় বলে অভিযোগ করেছেন উদয়ন গুহ।
তাঁর আরও অভিযোগ, নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সাধারণ মানুষের ওপরে লাঠিচার্জ করেছে। ভোট ঘোষণার সঙ্গে তিনি সরকারি গাড়ি ছেড়ে দিলেও নিশীথ প্রামাণিক হুটার লাগিয়ে ঘুরছেন বলে অভিযোগ করেছেন উদয়ন গুহ।
দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র এবং এক তৃণমূল কর্মী। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করেছে। এব্যাপারে পুলিশের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications