ভারতীয় হয়েও লাগে বিএসএফের অনুমতি, কাঁটা তারের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের এ কেমন গ্রাম!
North Bengal: গ্রামে যেতে হলে পৌঁছাতে হয় দক্ষিণ বেরুবাড়ির ঝাপরতলায় বিএসএফের সীমান্ত ফাঁড়িতে। পরিচয় প্রমাণ ঠিক থাকলে তবেই কর্তব্যরত জওয়ানরা গেট খুলে প্রবেশ করার অনুমতি দেন। এটুকু শুনে মনে হতেই পারে সীমান্ত পারে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার জন্য যাতায়াতের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আদতে তা একেবারেই নয়, বরং ভারতে আসার জন্য পরিচয় পত্র দেখিয়ে বিএসএফের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয় ভারতীয়দেরই!
অবাক হচ্ছেন তো! মনে হচ্ছে এ আবার কেমন জায়গা? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে লুকিয়ে রয়েছে বাংলার মাটিতেই। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অন্তর্গত ছিট সকাতি গ্রাম। যা কিনা ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত, কিন্তু রয়েছে কাঁটাতারের ওপারে। এই গ্রামে বসবাস করছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার, মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন। তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাস করলেও কাঁটাতারের ওপারে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের জীবন অনেকটা অস্বাভাবিক এবং চ্যালেঞ্জের মধ্যে।

গ্রামটির বাসিন্দাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে নদী ও কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে। তবে, সেতুটি সম্প্রতি ভেঙে গিয়েছে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন চিকিৎসা, বাজার করা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করার জন্য নদী পারাপার করতে হয়।
বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী ভীষণ খারাপ হয়ে ওঠে, যা তাদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে, অনেক সময় নদীতে পড়ে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। কিন্তু কে সারাবে সেই ব্রিজ?
সামান্য একটি সেতু তৈরির পয়সাও নেই ব্লকে, ভারতীয় হলেও সামান্যতম পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত সীমান্ত পাড়ের শতাধিক ভোট দাতা। ওপার বাংলা থেকে নদী পেরিয়ে ভারতে আসেন এনারা!
এই পরিস্থিতিতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই গ্রামের বাসিন্দাদের। নেই কোনও সেতু কিংবা বিকল্প পথ! অগত্যা নদীর জল পায়ে হেঁটে পেরিয়েই আসতে হয় তাঁদের। প্রশাসনের অবহেলা আর দুর্গতির উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সীমান্তপাড়ের এই গ্রামটি। সুদিন ফিরবে কবে? এই প্রশ্নের উত্তরে অপেক্ষায় বসে রয়েছেন প্রায় ৩০ টি পরিবার।












Click it and Unblock the Notifications