মালদহের স্কুলে পিস্তল-অ্যাসিড বোমা হাতে শাসানি যুবকের, কী ঘটল তারপর...
মালদহের স্কুলে বন্দুকবাজ হামলা! পড়ুয়াভর্তি ক্লাসরুমে পিস্তল হাতে ঢুকে পড়ল এক যুবক। শুধু পিস্তলই নয়, হাতে অ্যাসিড বোমাও ছিল তাঁর। খুদে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে দাঁড়িয়ে সে রীতিমতো শাসানি দিতে থাকে। এই অবস্থায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় পুরাতন মালদহের মুচিয়া চন্দ্রমোহন হাইস্কুলে।

বন্দুকবাজের হামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে। চটজলদি তারা খবর দেন পুলিশকে। পুলিশ ঘিরে ফেলে গোটা স্কুল। কিন্তু ক্লাসভর্তি খুদে পড়ুয়ারা যে বিপদে। তাদের জীবন সংশয়ের মধ্যে পড়ে রয়েছে। এই সময় অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ঝাঁপিয়ে পড়ে বন্দুকবাজের উপর।
ক্লাসের মধ্যেই ওই যুবককে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে তার হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয় পিস্তল। কেড়ে নেওয়া হয় অ্যাসিড বোমা। ওই ব্যক্তি নিজের জীবন হাতে করে নিয়ে বন্দুকবাজের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই, অন্যরাও তাকে গিয়ে ধরে ফেলে। পুলিশ এরপর পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসে।

এই ঘটনায় স্কুলে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। ক্লাসভর্তি পড়ুয়াদের কার্যত পণবন্দি করে ওই বন্দুকবাজ শাসাতে থাকে। হাড়হিম করা ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। ওই যুবক টেবিলে অ্যাসিড বোমা রেখে, হাতে পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি দিতে থাকে।
পুলিশ তাকে আটক করেছে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কী তার পরিচয়, কোথা থেকে সে এসেছে তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু কী করে স্কুলের মধ্যে ঢুকে পড়ল ওই যুবক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তার কাছ থেকে আরও বন্দুক উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ছুরি।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই আতঙ্কের পরিবেশ ছিল স্কুলে। অভিভাবকরা যে স্কুলে পাঠাবে তাদের সন্তানদের, তাদের নিরাপত্তা কোথায়, সেই প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ওই যুবক মানসিকবিকারগ্রস্ত কি না, নাকি জেনে বুজেই ওই যুবক কোনো রাজনৈতিক গলকে বার্তা দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যাই ঘটুক না কেন, এই ঘটনায় যে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে কিছু নেই তা প্রমাণিত।
একইসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে আবার। যে ঘটনা আমেরিকা বা পশ্চিমা দেশগুলিতে দেখা যেত, তা এখন ঘটছে আমাদের বাংলায়। একেবারে বন্দুকবাজের মতো সজ্জিত হয়ে ওই যুবক ঢুকেছিল স্কুলে। ওই ব্যক্তির দাবি, তাঁর ছেলে নিখোঁজ। ছেলেকে খুঁজে দিতে হবে বলেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন বলে দাবি। ওই ব্যক্তি এলাকারই বাসিন্দা বলে দাবি পুলিশের।












Click it and Unblock the Notifications