মূক - বধির তো কী? প্রেমের টানে চার হাত এক রিঙ্কি - রাজিতের
তাদের মতো করে চাওয়া আর পাওয়া। তাদের মতো করেই ইচ্ছেগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়া। একসঙ্গে থাকবে বলে দুজনে মনে করে। পরবর্তী সময়ে বিশ্বাস করেছিল। সেই বিশ্বাস অটুট থাকল। চার হাত এক হল। দুই মন অপরের কাছে এল। কথা বলা, কানে শোনার ক্ষমতা তাদের দুজনেরই নেই। তাতে কী হয়েছে? ভালোবাসার খামতি তো কোথাও হয়নি৷
ছোট থেকেই বাকশক্তি নেই। শ্রবণ ক্ষমতাও তৈরি হয়নি। মূক ও বধির হিসেবেই সমাজে তারা পরিচিত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু অন্তরের ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি। সেই ভালোবাসা থেকেই উত্তরপ্রদেশ ও মালদহ এক হল। ঘর বাঁধল রাজিত ও রিঙ্কি।

অন্তরের ভালোবাসার টানে মালদহের এক মূক ও বধির যুবতীর সঙ্গে মনের মিল হয়ে গেল সুদূর উত্তরপ্রদেশে এক মুক বধির যুবকের। তারা বাঁধা পড়ল বৈবাহিক বন্ধনে। এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। মালদহ শহরের এলিট কর্নারের বাসিন্দা নাড়ু দাস ও কল্পনা দাস স্বপ্নেও ভাবেননি তাদের প্রতিবন্ধী মেয়ে রিঙ্কি দাসের বিয়ে হবে।
একই অবস্থা ছিল সুদূর উত্তরপ্রদেশের কিষাণ পল ও কমলা দেবীর একমাত্র মূক - বধির পুত্র রাজিত সিংয়ের। জানা গিয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের আলাপ হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে প্রেম। সেই প্রেম গাঢ় হয় সময়ের সঙ্গে। প্রেমের টানে সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে ওই মুক ও বধির যুবক রাজিত মালদহে আসেন। রিঙ্কির সঙ্গে তার সামনা সামনি দেখা হয়।
রিঙ্কির পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশে ছেলের বাড়িতে যাওয়া হয়। ছেলের বাবা মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তাদের সম্পর্কের কথা মান্যতা পায়। কোনও আপত্তি আসেনি। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের একসঙ্গে চলার বার্তা দৃঢ় হয়। দুই পরিবারের সম্মতিতে রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়।
ইংলিশ বাজার থানার ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অফিসার সৌরজিৎ রায় এই বিয়ে দিয়েছেন। তিনিও উচ্ছ্বসিত এই বিয়ের জন্য। তিনি জানান, এরকম বিয়ে তার জীবনে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে রিঙ্কি ও রাজিতের এই বিয়ের কাজকর্ম তিনি করেছেন।
আত্মীয় - স্বজন ও প্রতিবেশীরাও খুশি। আগামীর চলার অঙ্গীকার করেছেন দুজনেই৷ বিয়ের পরে খুশি নতুন বর - কনে। তাদের মাধ্যমের একে অপরের সঙ্গে হাসি, প্রেম, খুনসুটি করে চলেছেন দুজনেই৷












Click it and Unblock the Notifications