বিজেপি ও তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে সিপিএমের শক্তিবৃদ্ধি, পঞ্চায়েতের আগে দলে দলে যোগদান
শুধু বিজেপিতেই নয়, তৃণমূলেও ভাঙন ধরিয়ে দিল সিপিএম। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শক্তিবৃদ্ধি হল তাদের। ডুয়ার্সে দলে দলে সিপিএমে যোগদান করলেন বিজেপি ও তৃমমূলের কর্মীরা। অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন উত্তরবঙ্গ থেকে জনসংযোগ যাত্রা শুরু করেছেন, তখন এই ভাঙন তাৎপর্যপূর্ণ।
চা বলয়ের পর কৃষি বলয়েও তৃণমূলের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি থেকে তিন শতাধিক কর্মী সিপিএমে যোগদান করেছে। যার মধ্যে নব্বই শতাংশই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক বলে দাবি সিপিএমের। রবিবার সন্ধ্যায় ডুয়ার্সের গয়েরকাটার সাঁকোয়াঝোরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঙ্কুবাজারে এই দলবদলের ঘটনা ঘটে।

গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ডুয়ার্সের চা ও কৃষি বলয়ে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএম শূন্যতে নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতিতে কোণঠাসা শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে শাসক তৃণমূলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে কৃষি বলয়ের মানুষজনও। তারই প্রমাণ মিললো এদিনের এই দলবদলের ঘটনায়।
যেখানে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলার বিভিন্ন বুথে জনসংযোগ শুরু করেছেন, তখন তৃণমূল থেকে সিপিএমে যোগদানের ঘটনা যেন উলট পুরাণ। জেলায় তৃণমূলের মাথাব্যাথার কারণ ছিল বিজেপি। এবার তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে সিপিএমও।

সম্প্রতি সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেসের প্রার্থীর হাতে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে তৃণমূলের। এই জয়ের পর থেকেই রাজ্যে অক্সিজেন পেতে শুরু করেছে বামেরা। সেইমতোই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ডুয়ার্সে শক্তিবৃদ্ধি হল সিপিএমের।
এদিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য জিয়াউল আলম, ধূপগুড়ি জোনাল কমিটির সম্পাদক মুকলেশ রায়, সরকার, এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার, আরএসপি নেতা রাজা জয়সওয়াল ও গয়েরকাটার সিপিএম নেতা বিরাজ সরকার-সহ অন্যান্য বাম নেতারা।

বিজেপি ছেড়ে সিপিএমে যোগদানকারী রাকেশ আলির বক্তব্য, ২০১৪ সালে আমরা বিজেপিতে যোগদান করি। তরপর থেকেই দেখে আসছি বিজেপি জাতিগত বিদ্বেষ নিয়েই বেশি চর্চা করে আর ভেদাভেদের রাজনীতি করে। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাই আমরা আবার পুরনো দলেই যোগদান করলাম।
তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগদানকারী মহম্মদ রাকেশের কথায়, তৃণমূলের যেভাবে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ। গরিব মানুষদের সঠিকভাবে ঘর দেওয়া হয়নি, আবাস যোজনায় দুর্নীতি হয়েছে। সেই কারণে আমরা আবার সিপিএমে যোগদান করলাম।
সিপিএম নেতা জিয়াউল রহমান বলেন, তৃণমূলের সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমূলক কাজে বিরক্ত হয়ে তৃণমূল ও বিজেপি থেকে তিনশতাধিক কর্মী সিপিএমে যোগদান করেন। গ্রামেগঞ্জে সিপিএম শক্তিশালী হচ্ছে। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ধরাশায়ী হবে।












Click it and Unblock the Notifications