বিজেপির ক্যাপ্টেন বদলের পরই ভাঙন উত্তরবঙ্গে, তৃণমূলে যোগদানে হাতছাড়া পঞ্চায়েত
বিজেপির ক্যাপ্টেন বদলের পরই ভাঙন উত্তরবঙ্গে, তৃণমূলে যোগদানে হাতছাড়া পঞ্চায়েত
২৪ ঘণ্টাও হয়নি ক্যাপ্টেন বদল করেছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি মনোনীত হয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল বিজেপি। যার জেরে নাগরাকাটা ব্লকের চম্পাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত হাত বদল হয়ে তৃণমূলের দতে চলে যেতে বসেছে।

উত্তরবঙ্গ বিজেপিতে ভাঙন
বিজেপি এবার উত্তরবঙ্গ থেকে তরুণ-তুর্কি, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির, শিক্ষিত-মার্জিত নেতাকে রাজ্য সভাপতি করেছে। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন জেলায়। এই অবস্থায় নেতৃত্বে নতুন মুখ এনে পরিস্থিতি বদলাতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গ বিজেপিতে ভাঙনের জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে।

বিজেপি সদস্যদের যোগদান তৃণমূলে
নাগরাকাটা ব্লকের চম্পাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ বিজেপি সদস্য এদিন যোগ দিলেন তৃণমূলে। তার ফলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি সংখ্যালঘু হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্তৃত্ব হারাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সঙ্গী হতেই এই গ্রাম পঞ্চায়েতে বদলের পক্ষে সায় দিলেন দলত্যাগীরা।

পাশা উল্টে গেল গ্রাম পঞ্চায়েতের
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের জলপাইগুড়ির চম্পাগুড়ি পঞ্চায়েতে বিপুল জয় পেয়েছিল বিজেপি। ২৫ আসনবিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতের ১৬টি আসনে বিজেপি জয়লাভ করেছিল। তৃণমূল পেয়েছিল ৯টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বোর্ড গড়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। পাশা উল্টে যায় গ্রাম পঞ্চায়েতের।

ফল একেবারে উল্টে গিয়েছে দলবদলে
বর্তমানে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের সাত সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৬ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯। আর তৃণমূলের আসন সংখ্যা ৯ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। ফল একেবারে উল্টে গিয়েছে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা। বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে পঞ্চায়েতের কর্তৃত্ব।

তৃণমূলরে পাল্টা হুঙ্কার বিজেপির
তৃণমূল জানিয়েছে, শীঘ্রই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে এই পঞ্চায়েতে। সাতজন সদস্যের যোগদানে আমরা এই পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই পঞ্চায়েক দখল করা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বিজেপি এর পাল্টা জানিয়েছে, কাটমানি খেতে তৃণমূলে যোগদান করেছে। ওই পঞ্চায়েত দখল করেও তৃণমূল কোনও লাভ করতে পারবে না। কারণ আমরা ওই পঞ্চায়েত সদস্যদের ছাড়াই নাগরাকাটা বিধানসভায় জিতেছি। সাংসদও পেয়েছিল আমরা।

উন্নয়ন নেই, বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
তবে বালুরঘাটের সাংসদের রাজ্য সভাপতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গ বিজেপিতে ভাঙন ভালো লক্ষণ নয়। দলত্যাগীরা বলেন, এই এলাকা থেকে বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক হয়েছে। অথচ কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উন্নয়নের জোয়ার চলছে রাজ্যে। সেই কারণেই বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়ছে। ভাঙছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications