বন্যায় সেনাঘাঁটি থেকে ভেসে গিয়েছে অস্ত্রশস্ত্র, হাতে এলেই ফেরানোর কাতর আর্জি জলপাইগুড়ি পুলিশের
তিস্তার জলস্রোতে ভেসে গিয়েছে সেনা ছাউনি। ১৫ জন সেনা জওয়ান শুক্রবার সকালেও নিখোঁজ। এছাড়াও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে সেনাবাহিনীর মধ্যে। সেনা ছাউনিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ছিল। সেই সব কিছুই তিস্তা ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ এই অস্ত্র পেলে কী হবে? তাই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
তিস্তার জলে একটি মর্টার ভেসে এসেছিল। জলপাইগুড়ি জেলার এক বাসিন্দা সেই মর্টার উদ্ধার করে। সেটি বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। তিনজন জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের তরফ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই বার্তা। বিধ্বংসী বন্যায় সেনাবাহিনীর ছাউনি থেকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ভেসে গিয়েছে। ভাসমান কোনও বস্তু, প্যাকেট চোখে পড়লে অবিলম্বে থানায় খবর দিতে বলা হয়েছে। এগুলির মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরক থাকতে পারে। সেজন্য সাধারণ মানুষকে কোনওভাবেই এগুলিতে হাত দিতে বারণ করা হচ্ছে।
তিস্তার জলে ভেসে আসছে গ্যাস সিলিন্ডার, আসবাবপত্রের অংশ, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অংশে সাধারণ মানুষ সেইসব সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। সেনা ছাউনি থেকে অস্ত্র, বিস্ফোরক জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। সেইসব সাধারণ মানুষের হাতে পড়তে পারে। ভয়ানক বিস্ফোরক, মর্টার সাধারণ মানুষের হাতে পড়েছে। সেই খবরও সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার একটি দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। তাই নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে ক্রান্তি ব্লকের চাপাডাঙা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের চাতড়া পাড়া এলাকায়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মর্টার সেলটি তিস্তা নদীতে ভেসে এসেছিল। তার ভিতরে কী রয়েছে তা দেখতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে।

তিস্তার জলে পাহাড় থেকে সমতলে ভেসে আসছে আসবাবপত্র, গ্যাস সিলিন্ডার, মর্টার সেল, গাছের গুঁড়ি সহ অনেক কিছু। সমতলের তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকার অনেকেই সেই গাছের গুঁড়ি, গ্যাস সিলিন্ডার, মর্টার সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। আর সেরকম একটি মর্টারের ভিতরে কী রয়েছে তা দেখতে গিয়ে বিষ্ফোরণ ঘটে। আরও তিনজন বিস্ফোরণে জখম হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে।
অন্যান্য অস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে পড়তে পারে। ডিনামাইড, মর্টার সহ একাধিক বিস্ফোরক লোকালয়ে জলের তোড়ে ভেসে আসতে পারে। সেইসব সাধারণ মানুষের হাতে পড়লে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছেই। এছাড়াও সমাজবিরোধীরাও সেইসব নিয়ে নিতে পারে। ওই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেজন্যই পুলিশ - প্রশাসন থেকে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications