বায়রনের তৃণমূল যোগে ফুঁসছে সাগরদিঘি! কোথাও ছেঁড়া হল ব্যানার, কোথাও আবার পোড়ানো হল ছবি
বায়রন বিশ্বাসের তৃণমূলে যোগদান হতেই উত্তাল সাগরদিঘী! আজ সোমবার ঘাটালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাম্পে যান বায়রন। সেখানেই তৃণমূলের পতাকা হাতে নেন তিনি। আর তাঁর দলবদলের পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে কংগ্রেস-বাম জোটের কাছে সাগরদিঘি মডেল একটা উদাহারণ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই সেই মডেল মুখ থুবড়ে পড়ল। আর এরপরেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ল বায়রনের কেন্দ্র সাগরদিঘীতে। উঠল বায়রন বিরোধী শ্লোগান। কেউ বললেন গদ্দার তো কেউ বললেন বিশ্বাসঘাতক।

এমনকি সমস্ত ফ্লেক্স-পোস্টারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, সাগরদিঘী বিধানসভার গৌরীপুর মোড়ের কংগ্রেস কার্যালয় থেকে ছিড়ে ফেলা হল বায়রন বিশ্বাসের সমস্ত ফ্লেক্স ক্যালেন্ডার স্টিকার। কংগ্রেসের তরফে এই বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। যা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বলে জানা গিয়েছে।
আর তা নিয়ে একেবারে উত্তাল বিধানসভা কেন্দ্র। স্থানীয় এক কংগ্রেস নেতার দাবি, অধীর রঞ্জন চৌধুরী বায়রন বিশ্বাসকে বিশ্বাস করে টিকিট দিয়েছিল। তাঁর হয়ে আমরা সবাই পথে নেমেছিলাম। সাগরদিঘির মানুষ তৃণমূলের নৈরাজ্য-চৌর্যবৃত্তির কারনে মানুষ ভোট দিয়েছিল। তৃণমূলকেও হারানো সম্ভব। সাগরদিঘি একটা মডেল তৈরি করেছিলাম। কিন্তু বায়রন যেভাবে তৃণমূলে গেল তাতে আমরা বিপর্যস্ত।

শুধু তাই নয়, সাগরদিঘির মানুষের সঙ্গে ও বিশ্বাসঘাতকতা করল বলেও দাবি ওই কংগ্রেস নেতার। শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, বায়রন বিশ্বাসের সঙ্গে কোনও কংগ্রেস নেতা-কর্মী নেই। আগামিদিনে সাগরদিঘির কোনও কংগ্রেস নেতাকেও তৃণমূলে যোগ দেওয়াতে পারবে না বলেও দাবি স্থানীয় ওই কংগ্রেস নেতার। ও বিশ্বাসঘাতকতা করল।
তবে আগামীদিনে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস ভালো ফল করবে বলেও এদিন দাবি করলেন ওই কংগ্রেস নেতা। অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন অধীর চৌধুরীও। বলেন, বায়রনের এই সিদ্ধান্ত আসলে মানুষের রায়কে পদাঘাত করা। মুর্শিদাবাদের মানুষ এই বিশ্বাসভঙ্গকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু সাগরদিঘি বিধায়কের দলত্যাগ কংগ্রেসের এগিয়ে চলা আটকাতে পারবে না। কংগ্রেস বা বামেদের রণনীতি কোনো বাধার মুখে পড়বে না।

শুধু তাই নয়, এতে কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি হবে না বলেও এদিন মন্তব্য করেছেন অধীর চৌধুরী। তবে সাগরদিঘিতে পা রাখলে বায়রনকে যে ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে তা কার্যত স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। আর তা নিয়ে অশান্তির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications